উত্তর পাকিস্তানের ব্রড পিকে সংঘটিত এক ভয়াবহ তুষারধসে ওমানের অগ্রণী পর্বতারোহী নাধিরা আল হারথির আকস্মিক মৃত্যুতে গোটা ওমানসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি ছিলেন মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণকারী প্রথম ওমানি নারী। তাঁর এই প্রয়াণের মধ্য দিয়ে দেশটির অন্যতম সফল ও সাহসী এক অভিযাত্রীর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের করুণ অবসান ঘটল।
ওমান নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের আলপাইন ক্লাব জানিয়েছে যে, গত বৃহস্পতিবার বিশ্বের দ্বাদশ সর্বোচ্চ পর্বত ৮,০৪৭ মিটার উচ্চতাবিশিষ্ট ব্রড পিকে তুষারধসের কবলে পড়ে আল হারথি এবং 'যুক্তা' নামে পরিচিত নেপালি পর্বতারোহী পুর বাহাদুর গুরুং প্রাণ হারান।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রখ্যাত নেপালি পর্বতারোহী নির্মল পুরজাসহ পর্বতটিতে নিখোঁজ হওয়া অন্তত ১০ জন পর্বতারোহীর সন্ধানে যখন উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত ছিল, ঠিক তখনই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
ভূগোলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী নাধিরা আল হারথি পেশাগত জীবনে ওমানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাগরিকত্ব বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারি চাকরির কঠিন দায়িত্বের পাশাপাশি উচ্চ-পর্বতারোহণের প্রতি নিজের গভীর ভালোবাসাকে তিনি সফলভাবে টিকিয়ে রেখেছিলেন।২০১৫ সালে তানজানিয়ার মাউন্ট কিলিমাঞ্জারোতে একটি কর্ম কর্মসূচির মাধ্যমেই মূলত তাঁর পর্বতারোহণের যাত্রা শুরু হয়। এরপর এভারেস্ট আরোহণকারী প্রথম ওমানি, প্রয়াত খালিদ আল সিয়াবির সাথে সাক্ষাতের পর তিনি এই খেলাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করতে অনুপ্রাণিত হন।
২০১৯ সালে মাসব্যাপী কঠোর প্রস্তুতি, উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং নিবিড় প্রশিক্ষণের পর আল হারথি মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণকারী প্রথম ওমানি নারী হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। পরবর্তীতে তিনি বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত কে২ আরোহণকারী প্রথম ওমানি হন। এ ছাড়াও মানাসলু, নাঙ্গা পারবাত ও আমা দাবলামসহ হিমালয়ের বেশ কয়েকটি কঠিনতম পর্বতশৃঙ্গ সফলভাবে আরোহণ করে তিনি আরব বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় উচ্চ-পর্বতারোহী হিসেবে নিজের নাম সুপ্রতিষ্ঠিত করেন।
এভারেস্ট সফলভাবে আরোহণের পর আল হারথি মন্তব্য করেছিলেন যে, এই অর্জন কোনো একক ব্যক্তিগত বিজয় নয়, বরং এটি একটি জাতীয় বিজয়। পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়ায় নিজের দেশের পতাকা উত্তোলন করতে পেরে তিনি গভীর গর্ব প্রকাশ করেছিলেন।
তাঁর দুঃসাহসিক অভিযান ও জনসমক্ষে জোরালো উপস্থিতি বহু তরুণ ওমানিকে, বিশেষ করে নারীদের, রোমাঞ্চকর অভিযান গ্রহণ করতে এবং সমাজ নির্ধারিত গতানুগতিক প্রত্যাশাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
ওমানের প্রতি তাঁর অনন্য অবদান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উদ্দীপ্ত করার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৪ সালে ‘দ্য অ্যারাবিয়ান স্টোরিজ’-এর পক্ষ থেকে তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ ‘চেঞ্জমেকার অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়।ওমানের সালতানাত জুড়ে এবং আন্তর্জাতিক পর্বতারোহণ মহল থেকে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি বর্ষিত হচ্ছে। তাঁকে একজন নির্ভীক অগ্রদূত হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে, যাঁর অদম্য দৃঢ়সংকল্প ও সহনশীলতা ওমানের পর্বতারোহণের দিগন্তকে বহুদূর প্রসারিত করেছিল।
সূত্র: গালফ নিউজ
ডিবিসি/এমএনকে