আন্তর্জাতিক, পাকিস্তান

পাকিস্তানে বোমা হামলায় ৫ পুলিশসহ ১৪ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৭ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে জঙ্গিবাদবিরোধী একটি সমাবেশে রবিবার আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্তত ১৪ জন নিহত এবং আরও ১৪ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াত উপত্যকার কাবাল শহরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। জেলা পুলিশ প্রধান ওমর খান জানান, একটি পুলিশ স্টেশনের কাছে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়ে শান্তির দাবি জানাচ্ছিলেন এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিলেন। খাইবার পাখতুনখোয়ার প্রাদেশিক জরুরি সেবার মুখপাত্র বিলাল ফাইজি জানান, জঙ্গিবাদবিরোধী স্লোগান দেওয়া অসংখ্য মানুষের ওই জমায়েতেই হামলাকারী এই বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশ কর্মকর্তা ওমর খান নিশ্চিত করেছেন, নিহতদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।

 

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

 

উল্লেখ্য, সোয়াত উপত্যকা একসময় ইসলামি জঙ্গিদের শক্ত ঘাঁটি ছিল। ২০০৭ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়ে তাদের বিতাড়িত করে এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার আগে সেখানে শরিয়া বা ইসলামি আইনের কঠোর ব্যাখ্যা চাপিয়ে দিয়েছিল জঙ্গিরা।

 

তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি নামে পরিচিত পাকিস্তানি তালেবানের ওপরই সন্দেহের তীর সবচেয়ে বেশি। টিটিপি আফগানিস্তানের তালেবান শাসকদের থেকে আলাদা হলেও তারা একে অপরের মিত্র সংগঠন। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর টিটিপির অনেক নেতা ও যোদ্ধা সেখানে আশ্রয় নিয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

 

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার টিটিপি জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। তবে কাবুল বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে জঙ্গি হামলার ঘটনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মূল লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটির পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী।

 

ডিবিসি/এসভিএন
 

আরও পড়ুন