ভারী মৌসুমি বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় গ্রামীণ এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ায় বোট বা নৌকায় চড়ে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন সাধারণ মানুষ।
দেশটির সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ পাঞ্জাবের মুরদকে জেলায় বিস্তীর্ণ ফসলি জমি এখন বিশাল আকৃতির পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
এএফপির সংবাদদাতারা জানান, স্বেচ্ছাসেবকদের ছোট মোটরবোটে করে কিছু মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হলেও এখনও বহু মানুষ পানিতে আটকা পড়ে আছেন।
সরকারি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুন থেকে পাকিস্তানে বন্যাজনিত বিভিন্ন ঘটনায়- যেমন পানিতে ডুবে ও ঘর ধসে- মোট ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মৃত্যুর ঘটনাই ঘটেছে পাঞ্জাব প্রদেশে।
দুর্গত গ্রামগুলোতে স্বেচ্ছাসেবীরা মানুষদের উদ্ধারের পাশাপাশি তাদের জিনিসপত্র রক্ষায় কাজ শুরু করেছেন। তবে উদ্ধার হয়ে আসার পরও দুর্গতদের দুর্দশা কমেনি। বাদামী রঙের থিকথিকে বন্যার পানি ও রাস্তার মাঝখানে ছোট্ট তাঁবুতে গুমোট গরমে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পাকিস্তান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ, যেখানে এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সীমিত সম্পদ রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় মৌসুমি বৃষ্টি কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তা এখন আরও অনিয়মিত ও মারাত্মক রূপ ধারণ করছে।
এর আগে ২০২২ সালে নজিরবিহীন মৌসুমি বর্ষণে পাকিস্তানে প্রায় ১ হাজার ৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং দেশের বিশাল অংশ পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল।
সূত্র: বিএসএস নিউজ
ডিবিসি/ এসভিএন