আন্তর্জাতিক, পাকিস্তান

পাকিস্তানে ভারী তুষারপাতে বিপর্যস্ত জনজীবন, একই পরিবারের ৯ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৭ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

পাকিস্তানে ভারী তুষারপাতে জনজীবন চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হিমাঙ্কের নিচে নেমে যাওয়া তাপমাত্রা এবং প্রবল তুষারঝড়ের কবলে আটকে পড়া ১৫০০ জনেরও বেশি মানুষকে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে দেশটির জরুরি উদ্ধারকারী সংস্থা। দেশটির উত্তরাঞ্চলে তুষারধসের কারণে একই পরিবারের ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আজ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) প্রদেশটির উদ্ধারকারী সংস্থা ‘রেস্কিউ ১১২-এর’ পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তুষারঝড়ে বিপন্ন পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে এখনও বিরামহীন উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে দেশটির উত্তরাঞ্চলে চিত্রালে তুষারধসের কবলে পড়ে একই পরিবারের  নয়জন সদস্য নিহত হয়েছেন।

 

নিহতরা হলেন বাচা খান, তার স্ত্রী, তিন ছেলে, দুই মেয়ে এবং দুই পুত্রবধূ। জানা গেছে, তুষারধসের সময় তারা বাড়ির কেন্দ্রীয় কক্ষে খাবার খাচ্ছিলেন।

 

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি), যখন ওই এলাকায় একটি পরিকল্পিত সামরিক অভিযান শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে নিরাপত্তার খাতিরে স্থানীয় বহু পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র সরে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময়েই তারা অতর্কিত এবং ভয়াবহ তুষারঝড়ের কবলে পড়েন। পাহাড়ি রাস্তাগুলো বরফে ঢেকে গিয়ে অত্যন্ত পিচ্ছিল ও বিপজ্জনক হয়ে ওঠায় যানবাহন চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় হিমাঙ্কের নিচে থাকা হাড়কাঁপানো তাপমাত্রা এবং প্রতিকূল আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে টানা ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উদ্ধারকর্মীরা তাদের অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

‘রেস্কিউ ১১২-এর’ মুখপাত্র বিলাল আহমেদ ফৈজি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, তিরাহ উপত্যকার দুর্গম বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫০টি যানবাহন এবং ১,৫০০ জনেরও বেশি মানুষকে সফলভাবে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া তুষারপাতের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়া শতাধিক ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলেই জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। এই বিশাল উদ্ধারযজ্ঞে খাইবার, পেশোয়ার, মারদান, নওশেরা এবং সোয়াবি জেলা থেকে আগত ১০০ জনেরও বেশি প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী অংশ নিচ্ছেন।

 

তুষারপাতের ভয়াবহতা বিবেচনায় খাইবার জেলা প্রশাসন আপাতত তিরাহ উপত্যকা থেকে লোক সরিয়ে নেওয়ার কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের বড়া এলাকার দিকে ভ্রমণ না করার জন্য কঠোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

এদিকে, তুষারপাতের প্রভাব কেবল তিরাহ উপত্যকায় সীমাবদ্ধ নেই; পাকিস্তানের অন্যান্য পাহাড়ি এলাকাতেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। জাতীয় হাইওয়ে ও মোটরওয়ে পুলিশ নাগরিকদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পর্যটনকেন্দ্র মুরি ভ্রমণে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। মুরি এক্সপ্রেসওয়ে বর্তমানে সাধারণ যাতায়াতের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে এবং শুধুমাত্র স্থানীয় বাসিন্দাদের অত্যন্ত সীমিত পরিসরে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। 

 

পর্যটকদের যেকোনো ভ্রমণের পরিকল্পনার আগে মোটরওয়ে পুলিশের সোশ্যাল মিডিয়া পেজ বা হেল্পলাইন থেকে সড়কের সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

তথ্যসূত্র: ডন

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন