এশিয়া টাইমস ও নেভাল নিউজ-এর দেওয়া সর্বশেষ তথ্যমতে, গত ৩০ এপ্রিল পাকিস্তান নৌবাহিনীতে চীনের তৈরি নতুন একটি হাঙ্গর ক্লাস (Type 039B) ডিজেল-ইলেকট্রিক অ্যাটাক সাবমেরিন আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন লাভ করে। এটি মূলত চীনের 'Sanya' (সানিয়া) শিপইয়ার্ড থেকে পাকিস্তান নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া, চীনে নির্মিত একই শ্রেণির অন্য ৩টি সাবমেরিন বর্তমানে সি-ট্রায়ালে রয়েছে, যা আগামী ২০২৮ সালের মধ্যে পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে।
গত ২০১৫ সালে পাকিস্তান তাদের নৌবাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীনের কাছ থেকে ৮টি হাঙ্গর ক্লাস (Type 039B) সাবমেরিন কেনার চুক্তি করে। এর মধ্যে ৪টি তৈরি হচ্ছে চীনের শিপইয়ার্ডে এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে বাকি ৪টি করাচি শিপইয়ার্ডে তৈরি করা হচ্ছে।
২০১৫ সালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পাকিস্তান সফরকালে দুই দেশের মধ্যে অত্যাধুনিক এয়ার-ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রপালশন (AIP) প্রযুক্তি সংবলিত ৮টি হাঙ্গর ক্লাস বা Type-039B সাবমেরিন কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই ৮টি সাবমেরিনের চুক্তিমূল্য ছিল প্রায় ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার।
এয়ার-ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রপালশন (AIP) প্রযুক্তি মূলত সাবমেরিনকে দীর্ঘ সময় সাগরের গভীরে লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করে। এই প্রযুক্তির সাহায্যে সাবমেরিনগুলো পানির নিচেই নিজস্ব উপায়ে বিদ্যুৎ ও অক্সিজেন উৎপাদন করতে পারে।
২,৮০০ টন ওজনের হাঙ্গর ক্লাস (Type 039B) ডিজেল-ইলেকট্রিক অ্যাটাক সাবমেরিনের দৈর্ঘ্য ৭৬ মিটার এবং বিম ৮.৪ মিটার। এতে শক্তি উৎপাদনের জন্য চীনের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ৪টি CSOC CHD620 ডিজেল-ইলেকট্রিক ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে।
স্টিলথ (Stealth) প্রযুক্তি সংবলিত এই সাবমেরিনের রেঞ্জ হলো প্রায় ২ হাজার নটিক্যাল মাইল বা ৩,৭০৪ কিলোমিটার। এছাড়া, এটি সমুদ্রে একটানা ৬৫ দিন পর্যন্ত কমব্যাট মিশন পরিচালনা করতে পারে এবং সাগরের প্রায় ২৫০-৩০০ মিটার গভীরে লুকিয়ে থাকতে পারে।
সাগরের বুকে এই সাবমেরিন ২০ নটিক্যাল মাইল বা প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৩৭.০৪ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে। সাবমেরিনটিতে ৬টি ৫৩৩ মিলিমিটারের টর্পেডো টিউব রয়েছে। অস্ত্র হিসেবে এটি ৩৬টি মেরিন মাইনের পাশাপাশি YU-6 হেভি টর্পেডো এবং পাকিস্তানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বাবর-৩ ক্রুজ মিসাইল (SLCM) বহন করবে।
বর্তমানে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে মোট ৫টি পুরোনো সাবমেরিন সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে ফ্রান্স থেকে কেনা ৩টি পুরোনো অ্যাগোস্টা ৯০বি (Agosta 90B) এবং ২টি অ্যাগোস্টা ৭০ (Agosta 70) ক্লাস সাবমেরিন রয়েছে। এছাড়া, সমুদ্রের বুকে স্পেশাল মিশনের জন্য তারা ৩টি ছোট আকারের (MG110) সাবমেরিন ব্যবহার করে।
লেখক: সিরাজুর রহমান
শিক্ষক ও লেখক, সিংড়া, নাটোর, বাংলাদেশ।
ডিবিসি/আরএসএল