টানা অনাবৃষ্টি ও তীব্র তাপদাহে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে গেছে। ফলে দেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উৎপাদন সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। কেন্দ্রের মোট ৫টি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে ৪টি ইউনিটই বন্ধ রাখা হয়েছে। মাত্র ১টি ইউনিট থেকে নামমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।
কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (কপাবিকে) কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, ২৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার এই কেন্দ্রে বর্তমানে মাত্র ১ নং ইউনিটের মাধ্যমে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, হ্রদে বর্তমানে পানির উচ্চতা ৭৭ দশমিক ৪৭ মিন সি লেভেল (এমএসএল), যেখানে এই সময়ে নিয়ম অনুযায়ী পানির স্তর থাকার কথা অন্তত ৮৩ দশমিক ৮০ এমএসএল।
হ্রদে সর্বোচ্চ ১০৯ এমএসএল পর্যন্ত পানি ধারণ ক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে তা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পানির উচ্চতা ৬৮ এমএসএল-এ নেমে এলে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।
কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, কেন্দ্রের সবকটি ইউনিট যান্ত্রিকভাবে সচল থাকলেও কেবল পানির অভাবে সেগুলো চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ভারী বৃষ্টিপাত ছাড়া এই সংকট উত্তরণের আর কোনো বিকল্প নেই।
এদিকে হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনেই প্রভাব পড়েনি, বরং রাঙামাটির দুর্গম পাঁচ উপজেলার নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বিলাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চ ও বোটগুলো ডুবোচরে আটকে যাচ্ছে।
হ্রদের বিভিন্ন অংশে পলি জমে নাব্যতা সংকট দেখা দেওয়ায় নৌযান চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এর ফলে হ্রদকেন্দ্রিক জীবিকা নির্বাহকারী কয়েক হাজার মানুষ কর্মহীন হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। একই সাথে ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি এখন চরমে।
ডিবিসি/টিবিএ