পানির তৃষ্ণা মেটাতে গিয়ে ভুলবশত ব্যাটারির এসিডযুক্ত পানি পান করে সাঈদুল আলম সামী (৪) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ আড়াই মাস মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
নিহত সামী টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজার কোনারপাড়ার শামসুল আলমের ছেলে এবং স্থানীয় আইডিয়াল একাডেমী এন্ড হাইস্কুলের নার্সারি শ্রেণির ছাত্র ছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল শিশু সামী বাড়ির পার্শ্ববর্তী মহিমের চায়ের দোকানে যায়। এ সময় তার পানির তৃষ্ণা পেলে, পাশে থাকা পানের দোকানদার কামাল হোসেনের রাখা একটি বোতল থেকে তার ভাই মো. কাজল শিশুটিকে পানি খেতে দেন। কিন্তু বোতলটিতে সাধারণ পানির বদলে রাখা ছিল ব্যাটারির এসিডযুক্ত পানি। ওই পানি পানের পরপরই শিশুটি রক্তবমি করতে শুরু করে এবং গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে।
অসুস্থ সামীকে প্রথমে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চমেক ও কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে শিশুটির খাদ্যনালীসহ একাধিক অপারেশন করা হয়। সন্তানের চিকিৎসায় পরিবারটি এ পর্যন্ত প্রায় ৮ লক্ষ টাকা খরচ করেছে। সামীর পিতা শামসুল আলম জানান, চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে তিনি তার উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম 'টমটম' গাড়িটিও বিক্রি করে দিয়েছেন। অনেক মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে গেলেও দীর্ঘ আড়াই মাস পর অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শিশুটি।
এ ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে একটি সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় অভিযুক্ত পক্ষ প্রাথমিকভাবে চিকিৎসার জন্য মাত্র ১৫ হাজার টাকা প্রদান করে। এরপর অভিযুক্ত কাজলের পক্ষ থেকে আর কোনো ধরনের সহযোগিতা করা হয়নি বলে পরিবারের অভিযোগ। নিহত সামীর পিতা শামসুল আলম এবং চাচা শাহ আলম এই ঘটনাটিকে 'হত্যা' বলে দাবি করে অভিযুক্ত কামাল ও কাজলের সুষ্ঠু বিচার চেয়েছেন। তারা এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করবেন বলেও সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিশু সামীর এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় ও স্বজনদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ডিবিসি/এমএনকে