বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

পাবনায় মানববন্ধনে ব্যানার কেড়ে নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলা, গুলিবিদ্ধ ১

পাবনা স্টাফ রিপোর্টার

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার শিবপুর এলাকায় একপক্ষের মানববন্ধনে প্রতিপক্ষ হামলা চালিয়েছে। এ সময় তাদের গুলিতে ইকরাম মোল্লা (৫০) নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিবপুর ত্বহা ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসার প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ ইকরাম মোল্লা আটঘরিয়া উপজেলার কদিম বাগদিপাড়া গ্রামের জবির মোল্লার ছেলে।

 

স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি শিবপুর ত্বহা ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক শামসুল আলম মঞ্জু এবং একই প্রতিষ্ঠানের প্রভাষক আফরোজা খাতুনের বিরুদ্ধে অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর তাদের অপসারণ দাবিতে গত ৩ আগস্ট মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে স্থানীয় একটি পক্ষ।

 

অন্যদিকে, ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে রবিবার (৯ আগস্ট) সকালে পাল্টা মানববন্ধন কর্মসূচি আহ্বান করে স্থানীয় অপর একটি পক্ষ। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাদরাসার প্রধান ফটকের সামনে ব্যানার নিয়ে মানববন্ধনে দাঁড়ান তাঁরা। এ সময় টিপু বিশ্বাস ও তাঁর সহযোগীরা সেখানে গিয়ে তাঁদের কাছ থেকে ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে মানববন্ধনে বাধা দেন। পরে উপস্থিত লোকজন তাঁকে প্রতিহত করতে চাইলে টিপু বিশ্বাস তাঁর কোমর থেকে পিস্তল বের করে প্রথমে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করেন। তারপর তাঁকে বাধা দেওয়ার সময় ইকরাম মোল্লার সরাসরি পেটে গুলি করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে গুলিবর্ষণকারীকে ধাওয়া দিলে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা পালিয়ে যান।

 

স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ ইকরাম মোল্লাকে উদ্ধার করে দ্রুত পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় আটঘরিয়া ও আতাইকুলা থানা-পুলিশ।

 

পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে মানববন্ধন করেন দুই শিক্ষকের পক্ষের লোকজন ও স্বজনরা। এ সময় বক্তব্য দেন হোসেন আলী, বকুল হোসেন, আব্দুস সামাদ, মজনু প্রামানিক প্রমুখ।

 

বক্তারা অভিযোগ করেন, শিবপুর ত্বহা ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসা অনেক পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী একটি মাদ্রাসা। খুব সুন্দর ও ভালোভাবে এটি পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক শামসুল আলম মঞ্জু ও প্রভাষক আফরোজা খাতুনকে নিয়ে একটি পক্ষ মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ষড়যন্ত্রে নেমেছে। তাদের মধ্যে রয়েছে আলাউদ্দিন, রাহিমুন, টিপু, নুরুন নবী গং। তারা মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার পাঁয়তারা করছে। আমরা মাদ্রাসার সুনাম নষ্ট করার প্রতিবাদে আজকে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন আয়োজন করি।

 

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, মানববন্ধনে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই টিপু বিশ্বাস ও তাঁর সহযোগীরা এসে ব্যানার কেড়ে নিয়ে মানববন্ধন করতে বাধা দেন। আমরা তাঁকে প্রতিহত করার একপর্যায়ে তিনি তাঁর কোমর থেকে পিস্তল বের করে প্রথমে একটি ফাঁকা গুলি করেন। পরে ইকরাম মোল্লাকে সরাসরি পেটে গুলি করে পালিয়ে যান। আমাদের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার চাই।

 

এ বিষয়ে আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় কেউ এখনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উত্তেজনা থাকায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

শিবপুর ত্বহা ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক শামসুল আলম মঞ্জু বলেন, একটি কুচক্রী মহল আমার পেছনে লেগেছে। আমাকে এখান থেকে বিতাড়িত করতে চায়। এলাকার কিছু মানুষকে ভুল বুঝিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে তারা। আমি কোনো অনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে কখনোই জড়িত ছিলাম না। আমাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।

 

হামলা ও গুলিবর্ষণের বিষয়ে অভিযুক্ত টিপু বিশ্বাস ও তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

 

ডিবিসি/এসভিএন

 

 

আরও পড়ুন