উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন যে, তাঁর দেশ কখনোই নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রের মর্যাদা সমর্পণ করবে না এবং পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার সম্প্রসারণের কাজ অব্যাহত রাখবে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া সরকারের দুটি শীর্ষ পদে থাকা কিম ইয়ো জং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাঁরা কোনো ধরনের হুমকি বরদাশত করবেন না।
একইসঙ্গে উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার মার্কিন প্রচেষ্টাকে তিনি 'সেকেলে স্বপ্ন' বা অবাস্তব বলে আখ্যায়িত করেছেন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আসন্ন উত্তর কোরিয়া সফরের ঠিক আগে এই মন্তব্য করলেন তিনি। প্রায় সাত বছর পর সোমবার এক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে উত্তর কোরিয়ায় যাচ্ছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। গত মে মাসের এক শীর্ষ সম্মেলনে শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন বলে যুক্তরাষ্ট্র যে দাবি করেছে, তাকে সম্পূর্ণ 'মিথ্যা' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কিম ইয়ো জং। তিনি জানান, এ বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার কাছে সবচেয়ে সঠিক তথ্য রয়েছে। কিম ইয়ো জং আরও বলেন, রাষ্ট্রপ্রধানের ঘোষণা অনুযায়ী আত্মরক্ষামূলক পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা ক্রমাগত শক্তিশালী করার নীতিটি একটি চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয় সিদ্ধান্ত, যা নিঃশর্তভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা এখনো তাঁদের বাস্তববর্জিত ও সেকেলে স্বপ্ন থেকে জেগে উঠতে পারেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চলতি সপ্তাহের শুরুতেই উত্তর কোরিয়া একটি নতুন পারমাণবিক উপাদান তৈরির কারখানা উন্মোচন করেছে। সেখানে কিম জং উন দেশের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার 'বহুগুণ' বাড়ানোর নির্দেশ দেন। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রটি মূলত আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনের আগে উত্তর কোরিয়ার আলোচনার অবস্থানকে শক্তিশালী করা এবং পারমাণবিক অস্ত্র বৃদ্ধির বিষয়টিকে যৌক্তিক হিসেবে তুলে ধরার একটি কৌশল। এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় পত্রিকা 'দ্য রোদং সিনমুন'-এর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, রোববার কিম জং উন একটি প্রধান যুদ্ধাস্ত্র কারখানা পরিদর্শন করেছেন এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা আড়াই গুণ (২.৫ গুণ) বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
২০১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বাড়ানোর দিকে নিবিড়ভাবে মনোযোগ দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কিম জং উন পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করতে চান, যাতে তিনি উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানাতে পারেন। এমন প্রেক্ষাপটেই পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে সফরে আসছেন শি জিনপিং; উল্লেখ্য, চীন উত্তর কোরিয়ার একমাত্র আনুষ্ঠানিক চুক্তিভিত্তিক মিত্র।
সামরিক প্রদর্শনী ও বিদেশি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে কিম জং উনের পাশে প্রায়ই তাঁর বোন কিম ইয়ো জং-কে দেখা যায়। পাশাপাশি সামরিক অনুষ্ঠানগুলোতে কিমের কিশোরী কন্যাকেও (ধারণা করা হয় তাঁর নাম কিম জু আয়ে) নিয়মিত দেখা যাচ্ছে, যাকে কিম জং উনের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হয়।
সূত্র: স্কাই নিউজ
ডিবিসি/এফএইচআর