চলমান উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ করে পুনরায় আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান। রবিবার (২৮ জুন) এক মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতে ভেস্তে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে থাকা সমঝোতা স্মারকটি টিকে থাকার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার (৩০ জুন) কাতারে দুই দেশের মধ্যে এই আলোচনা আবার শুরু হবে।
মার্কিন ওই কর্মকর্তার মতে, সমঝোতা স্মারকের আওতাধীন সকল বিষয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত থাকবে। আপাতত উভয় পক্ষই নতুন করে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকবে এবং এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নির্বিঘ্নে ও অবাধে চলাচল করতে পারবে।
গত কয়েক দিন ধরে এই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলাকে কেন্দ্র করেই মূলত দুই দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে দেশটির উপকূলীয় অঞ্চলে বিমান হামলা চালায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এর কড়া জবাব দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত অন্তত আটটি মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানার দাবি করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এই পাল্টাপাল্টি হামলার মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি না মানলে ইরানের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।
এদিকে এই উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা গত রোববার লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। এতে দক্ষিণ লেবাননের একটি গ্রামে গোষ্ঠীটির ব্যবহৃত ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো ধ্বংস করার দাবি করেছে তারা। এই প্রেক্ষাপটে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, বৃহত্তর কোনো সমঝোতা কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে লেবাননের চলমান সংঘাতেরও দ্রুত অবসান ঘটাতে হবে।
সূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/পিআরএএন