আজ চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভাল ফোর্স বা গণমুক্তি ফৌজ নৌবাহিনীর ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। মূলত আজকের এই দিনে ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের জন্মের সাথে একই বছরে যাত্রা শুরু করে পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভাল ফোর্স।
প্রতিষ্ঠার শুরুতে চীনের নৌবাহিনীর হাতে এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার তো দূরের কথা একটি সাবমেরিনও ছিল না। অথচ আজ কিনা তারা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও শক্তিশালী নৌবাহিনীতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে দেশটির নৌবাহিনীতে প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার দক্ষ নৌসেনা রয়েছে।
বর্তমানে পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভাল ফোর্সের হাতে ৩টি শক্তিশালী এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার এবং তার পাশাপাশি ৪টি ডেডিকেটেড এম্ফিবিয়াস এ্যাসাল্ট শিপ বা হেলিকপ্টার ক্যারিয়ার অপারেশনাল রয়েছে। এর পাশাপাশি, প্রায় ৫৮টি ডেস্ট্রয়ার, প্রায় ৪৭টি ফ্রিগেট ও প্রায় কয়েক শতাধিক অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ ও সহায়ক জাহাজ রয়েছে।
চীনের পারমাণবিক সাবমেরিন বর্তমানে বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং এর সংখ্যা রাশিয়াকেও ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে সক্রিয় পারমাণবিক সাবমেরিনের মোট সংখ্যা প্রায় ৩২টি।
নিজস্ব প্রযুক্তি, অধ্যবসায়, মেধা এবং পরিশ্রমের ফলে শুন্য থেকে আজ চীন বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী নৌ-শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এছাড়া, চীনের নৌবাহিনী এখন শুধু নেভাল কমব্যাট মিশন নয় বরং বিশ্বশান্তি ও মানবিক কাজেও বড় ভূমিকা রাখছে।
২০০৮ সাল থেকে তারা উপসাগর ও সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যু দমনে ৭০০০-এর বেশি জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। এছাড়া, চীনের নৌবাহিনী পরিচালিত 'পিস আর্ক' হাসপাতাল জাহাজটি এখন পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় ৩ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে এক অনন্য নজির গড়েছে।
পরিশেষে বলা যায় যে, একটি দেশের শক্তিশালী নৌবাহিনী এবং সামরিক সক্ষমতা অর্জন যে শুধু যুদ্ধের জন্য হতে হবে বিষয়টি তা কিন্তু নয় বরং বিশ্বশান্তি, শৃঙ্খলা এবং বিশেষ করে একটি স্বাধীন দেশের সার্বিক নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। তাই, পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভাল ফোর্সের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী দেশটির জন্য সত্যিই গর্বের।
সিরাজুর রহমান,
শিক্ষক ও লেখক
ডিবিসি/আরএসএল