জেলার সংবাদ

পিরোজপুরে আসামি গ্রেপ্তার করিয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা নিলেন কথিত সাংবাদিক

পিরোজপুর প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

পিরোজপুরের নেছারাবাদে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে একটি মামলার বাদীর কাছ থেকে ২৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আবু রায়হান সোহেল নামে এক কথিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী ও মামলার বাদী মো. জাহাঙ্গীর মোল্লার অভিযোগ, গত ২৩ মে তার স্ত্রী ঘরে থাকা প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মালামাল ও নগদ অর্থ নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় গত ১ আগস্ট তিনি নেছারাবাদ থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করিয়ে দেওয়ার কথা বলে পূর্বপরিচিত কথিত সাংবাদিক আবু রায়হান সোহেল তার কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। নিজেকে দেশের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সোহেল তাকে আশ্বস্ত করেন যে, পুলিশের বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করিয়ে দিতে পারবেন। একই সঙ্গে পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।


এই আশ্বাসে বিশ্বাস করে জাহাঙ্গীর উপজেলার ইন্দেরহাট এলাকার একটি বিকাশের দোকান থেকে আবু রায়হান সোহেলকে ২৪ হাজার টাকা দেন বলে জানান। তবে টাকা দেওয়ার প্রায় এক মাস পার হলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। বরং বিষয়টি নিয়ে সোহেল নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছেন বলে অভিযোগ করেন জাহাঙ্গীর।


ভুক্তভোগীর ভাগনে মো. রাইসুল ইসলাম বলেন, ‘আসামিদের ধরতে থানায় টাকা দেওয়ার কথা বলে আবু রায়হান সোহেল আমাদের কাছ থেকে ২৪ হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। কারণ জানতে চাইলে তিনি বিভিন্ন অজুহাত দিচ্ছেন।’


অভিযোগের বিষয়ে মো. আবু রায়হান সোহেল বলেন, ‘মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে জাহাঙ্গীর মোল্লার কাছ থেকে পুলিশের মাধ্যমে আসামি ধরার খরচ হিসেবে ২০ হাজার টাকা নিয়েছি। ১৫ হাজার টাকা আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে দিয়েছি এবং বাকি ৫ হাজার টাকা আমি যাতায়াত খরচ হিসেবে রেখেছি। তবে পুলিশ টাকা নিয়ে এখন আসামি না ধরলে আমি কী করব?’


এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘আবু রায়হান নামে কথিত এক সংবাদকর্মী একটি মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করিয়ে দেবেন বলে বাদীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন, এমন একটি বিষয় শুনেছি। মামলার আসামি ধরার জন্য কোনো টাকা পুলিশকে দিতে হয় না। সোহেলের নামে সাংবাদিকতার আড়ালে একাধিক চাঁদাবাজির অভিযোগ আছে। পুলিশের নাম ভাঙিয়ে কেউ কোনো ধরনের চাঁদাবাজি করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


ডিবিসি/এসভিএন

আরও পড়ুন