পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় চুরির অপবাদ ও ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে নিয়ে জনসম্মুখে মারধরের অপমান সইতে না পেরে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন সবুজ (৩৩) নামে এক অটোরিকশা চালক। সোমবার (২ মার্চ) রাত ৮টার দিকে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত সবুজ উপজেলার সুটিয়াকাঠী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বালিয়ারী গ্রামের হুমায়ুন কবির খানের ছেলে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে সুটিয়াকাঠী ইউনিয়নের তিনটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয়দের সন্দেহের ভিত্তিতে পরদিন রবিবার (১ মার্চ) সকালে গ্রাম চৌকিদার মো. হানিফ এবং স্থানীয় দোকানদার রুবেল ও আব্দুল হাই সবুজকে বাড়ি থেকে ডেকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান। সেখানে সবার সামনে তাকে চুরির অভিযোগে মারধর করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
একপর্যায়ে তার বাবা ও শ্বশুরকে খবর দিয়ে এনে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের প্রতিশ্রুতিতে সবুজকে তাদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
নিহতের মা শাহিদা বেগম অভিযোগ করেন, তার ছেলে অটোরিকশা চালিয়ে সৎভাবে সংসার চালাতেন। তাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে গিয়ে মারধর করে মিথ্যা চুরির স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে। বাড়ি ফেরার পর চরম লজ্জা ও মানসিক যন্ত্রণায় গত রবিবার রাতেই সবুজ বিষপান করেন। নিহতের স্ত্রী সুমি বেগম জানান, তার স্বামী পাঁচ বছর বয়সী সন্তান জুনায়েদের মাথায় হাত রেখে বারবার নিরপরাধ হওয়ার দাবি করেছিলেন। মিথ্যা অপবাদ ও মারধরের অপমান সইতে না পেরেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
এ বিষয়ে সুটিয়াকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শানু চুরির বিষয়টি সিসিটিভি ক্যামেরায় নিশ্চিত হওয়ার দাবি করে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের শুরুতে সবুজ অস্বীকার করলেও পরে সিসিটিভির কথা শুনে স্বীকার করেন। সে সময় তাকে কয়েকটি চড় মারা হয়। পরে পরিবারের জিম্মায় যাওয়ার পর সে বিষপান করে। এটি সম্ভবত লজ্জা ও মানসিক ক্ষোভ থেকে হয়ে থাকতে পারে।
অন্যদিকে গ্রাম চৌকিদার মো. হানিফ ঘটনার দায় এড়িয়ে জানান, সবুজ প্রকাশ্যে চুরির কথা স্বীকার করার পর পরিষদে বিচার করা হয়েছিল, এর বাইরে তার কোনো দায় নেই।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চুরির অভিযোগে সালিশি বৈঠকে মারধরের পর ওই ব্যক্তি বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ডিবিসি/এএমটি