স্কুলে ক্লাস চলার সময় দুর্ঘটনা

পিরোজপুরে ফ্যানের পাখা পড়ে ২ শিক্ষার্থী আহত, শিক্ষা কর্মকর্তা বললেন আঘাত গুরুতর নয়

পিরোজপুর প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

পিরোজপুর জেলার নাজিরপুরে ক্লাস চলাকালীন বৈদ্যুতিক পাখা খুলে মাথায় পড়ে সৌভিক সমাদ্দার (১১) ও রাবেয়া খাতুন (১১) নামে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ১১টায় উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের ৮১ নং জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

আহত ছাত্রী রাবেয়া খাতুন জানায়, শনিবার সকালে বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত একটি ভবনের তৃতীয় শ্রেণির কক্ষে প্রায় ২৫ জন শিক্ষার্থী গণিত ক্লাস করছিল। হঠাৎ শ্রেণিকক্ষের একটি চলন্ত বৈদ্যুতিক পাখা ভেঙে সৌভিক সমাদ্দারের মাথার ওপর পড়ে এবং সে সাথে সাথে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ সময় ওই বৈদ্যুতিক পাখার একটি অংশ ভেঙে রাবেয়ার মাথার ওপর পড়লে সেও মাটিতে পড়ে যায়। এতে তাদের পাশে থাকা আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী সামান্য আহত হয়।

 

এ সময় ওই শ্রেণিতে পাঠদানে থাকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রিক্তা মন্ডল বলেন, “আমি তখন গণিতের ক্লাস নিচ্ছিলাম। শিক্ষার্থীদের অংক করতে দিয়েছিলাম। হঠাৎ একটি শব্দ শুনে তাকিয়ে দেখি ফ্যান খুলে ওদের মাথার ওপর পড়েছে। পরবর্তীতে ওদেরকে হাসপাতালে নিয়ে আসি।”

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা স্নিগ্ধা রানী মন্ডল জানান, শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় বিদ্যালয়ের পুরাতন ওই ভবনটিতেও ক্লাস নেওয়া হয়। তবে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ কি না, তা শিক্ষার্থীরা কখনো তাকে জানায়নি। ঘটনার সময় তিনি লাইব্রেরিতে একটি মিটিংয়ে ছিলেন। কয়েকজন শিক্ষার্থী দৌড়ে এসে খবর দিলে তারা দ্রুত সেখানে যান এবং আহত দুই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

 

নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ডা. অতনু হালদার জানান, জরুরি বিভাগে আনা দুটি বাচ্চার মধ্যে মেয়েটির কানের ওপরে সামান্য কেটে যাওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে ছেলেটির মাথায় আঘাত (হেড ইনজুরি) গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাকিম জানান, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। সামান্য আহত শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তার বাবা-মা নিয়ে গেছে। গুরুতর আহত অপর শিক্ষার্থীকে তার বাবা-মা উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে নিয়ে গেছে এবং সে বর্তমানে সুস্থ ও ঝুঁকিমুক্ত আছে। তিনি আরও বলেন, জরাজীর্ণ প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে এলজিইডি ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে এবং একজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার (এটিও) মাধ্যমে তদন্ত সাপেক্ষে রিপোর্ট তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন