ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে টানা দুই হারে সিরিজ হারানোর পর পাকিস্তান ক্রিকেটে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন অস্থিরতা ও বড় ধরণের রদবদল। শেষ টেস্টের আগে একযোগে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ৭ ক্রিকেটারকে এবং প্রধান কোচ ও বোলিং কোচকে অব্যাহতি দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
চরম ব্যর্থতার দায় নিয়ে দল থেকে বাদ পড়া ক্রিকেটারদের মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আলী আগা, আলী উসমান, আমির জামাল, মুহাম্মদ আওয়েস জাফর এবং খুররম শাহজাদ। তাদের পরিবর্তে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সিরিজের শেষ টেস্টের দলে সুযোগ পেয়েছেন সাইম আইয়ুব, আবদুল্লাহ ফজল, আরাফাত মিনহাস, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাদ বেগ, মোহাম্মদ ইমরান ও রেজাউল্লাহ।
অন্যদিকে, প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং বোলিং কোচ ওমর গুলকে সরিয়ে সাময়িকভাবে লাল বলের দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাদা বলের প্রধান কোচ মাইক হেসন এবং অ্যাশলে নোফকে।
এই দলীয় পরিবর্তনের পেছনে কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই বলে দাবি করেছেন নির্বাচক কমিটির সদস্য আকিব জাভেদ। জিও নিউজের এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, মেধার ভিত্তিতে ১৭ জনের দল গঠন করা হলেও একাদশ নির্বাচনের মূল সিদ্ধান্ত ছিল অধিনায়ক ও প্রধান কোচের। সিরিজ হাতছাড়া হওয়ায় তরুণদের সুযোগ দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে, আকিব জাভেদ নিজেই প্রধান কোচ হওয়ার জন্য দলে এসব পরিবর্তন আনছেন বলে অভিযোগ তুলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার ও পাকিস্তানের সাবেক কোচ জেসন গিলেস্পি। তবে সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আকিব জানিয়েছেন, তার প্রধান কোচ হওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই এবং তিনি কেবল পিসিবির নির্দেশেই দায়িত্ব পালন করছেন।
দল নির্বাচনে এই বিশৃঙ্খলা ও বিপর্যয়ের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা চেয়ে নির্বাচক কমিটির সদস্য আকিব জাভেদ, মিসবাহ-উল-হক এবং আসাদ শফিককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ জারি করেছে পিসিবি। বোর্ডের এমন কঠোর অবস্থানের মাঝেই নির্বাচক কমিটি থেকে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন পাকিস্তানের সাবেক সফল অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক।
ডিবিসি/এমএনকে