ঋতুরাজ বসন্তের শিমুল রাঙা প্রকৃতির মাঝেই শুরু হয়েছে পবিত্র মাহে রমজান। ত্যাগ ও সংযমের এই মাসকে সামনে রেখে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যের প্রাণকেন্দ্র চকবাজারসহ রাজধানীজুড়ে শুরু হয়েছে ইফতারির এলাহি প্রস্তুতি। পুরনো ঐতিহ্যকে ধারণ করে ব্যবসায়ীরা পসরা সাজানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
চকবাজারে প্রতিবারের মতো এবারও ইফতারের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছে 'বড় বাপের পোলায় খায়'। এর সাথে সুতি কাবাব, জালি কাবাব, শাহি জিলাপি আর বাহারি সব পানীয়র প্রস্তুতি নিচ্ছেন বংশপরম্পরায় ব্যবসা করে আসা দোকানিরা।
ইফতার বিক্রেতা মো. আকবর শাহ জানান, ইতিমধ্যে তিনি চকের আঙিনায় জায়গা নির্ধারণ করেছেন। তার প্রত্যাশা, রমজানে প্রতিদিন গড়ে ৬০-৭০ হাজার টাকার ইফতার বিক্রি হবে। তিনি বলেন, এটি আমাদের বাবা-দাদাদের আমল থেকে চলে আসা ব্যবসা। ঐতিহ্যের এই ধারা ধরে রাখাই আমাদের সার্থকতা।
শুধু চকবাজার নয়, ইফতারির প্রস্তুতিতে পিছিয়ে নেই বেইলি রোড, খিলগাঁও, বনানী ও গুলশানের অভিজাত রেস্তোরাঁগুলোও। মোহাম্মদপুরের বিহারি ক্যাম্পেও চলছে বিশেষ ঘরানার কাবাব ও চাপের প্রস্তুতি। দেশীয় ঐতিহ্যের পাশাপাশি এবার আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন 'কুজিন' ও বুফে ইফতারের ব্যাপক আয়োজন থাকছে রাজধানীর বড় হোটেলগুলোতে। অনেক রেস্তোরাঁ ইতিমধ্যে ব্যানার ও সামিয়ানা টাঙিয়ে আগাম বার্তাও দিয়ে রেখেছে।
আয়োজন বিশাল হলেও ব্যবসায়ীদের মনে স্বস্তি নেই। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য ও গ্যাস সংকট নিয়ে বড় ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন তারা। ব্যবসায়ীদের দাবি ইফতারের নির্দিষ্ট সময়ে একসাথে অনেক মানুষের জন্য খাবার তৈরি ও পরিবেশন করা কঠিন হয়ে পড়বে। যার ফলে উপকরণের দাম ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে ইফতারির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে যাওয়ার ভয় থাকছে।
গ্যাস সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা যাতে সুন্দরভাবে সিয়াম সাধনা ও ইবাদত সম্পন্ন করতে পারেন, সেই প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন রাজধানীর ব্যবসায়ীরা।
ডিবিসি/এসএফএল