প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে প্রাণীজগতে সাধারণত স্ত্রী প্রাণী বা মা সন্তান গর্ভধারণ করেন এবং জন্ম দেন। কিন্তু সমুদ্রের তলদেশে এমন এক বিচিত্র প্রাণী রয়েছে, যার ক্ষেত্রে এই চিরন্তন নিয়মটি সম্পূর্ণ উল্টো। সি হর্স বা ঘোড়াসাগর হলো পৃথিবীর একমাত্র পরিচিত প্রাণী, যাদের মধ্যে পুরুষ সদস্যটি গর্ভধারণ করে এবং জীবন্ত সন্তান প্রসব করে।
জীববিজ্ঞানীদের মতে, সি হর্স এবং তাদের নিকটাত্মীয় পাইপফিশ ও সি ড্রাগনরা সিনগ্নাথিডি গোত্রের অন্তর্ভুক্ত, আর এই গোত্রের পুরুষদের মধ্যেই কেবল এই বিরল বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।
এই অদ্ভুত প্রজনন প্রক্রিয়ার শুরুতে, স্ত্রী সি হর্স তার ডিমগুলো পুরুষ সঙ্গীর পেটের বা লেজের সামনের দিকে থাকা একটি বিশেষ থলিতে স্থানান্তর করে।
এই থলিটি অনেকটা ক্যাঙ্গারুর থলির মতো কাজ করে। পুরুষ সি হর্স সঙ্গে সঙ্গে সেই ডিমগুলোকে নিজের শুক্রাণু দিয়ে নিষিক্ত করে। এরপর থেকেই শুরু হয় পুরুষের ‘গর্ভধারণ’ পর্ব। এই থলির ভেতরেই ডিমগুলো নিরাপদে বড় হতে থাকে।
পুরুষ সি হর্স তার শরীরের মাধ্যমে ডিমগুলোতে অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং থলির ভেতরের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করে যাতে বাচ্চারা সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে পারে। প্রজাতিভেদে এই গর্ভকালীন সময় ১০ দিন থেকে শুরু করে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
সময় পূর্ণ হলে, পুরুষ সি হর্স তার শরীর সংকুচিত করে এবং মোচড় দিয়ে থলির মুখ খুলে দেয়। তখন সেই থলি থেকে শত শত, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে হাজারেরও বেশি ক্ষুদ্রাকৃতির পূর্ণাঙ্গ বাচ্চা সি হর্স বা ‘ফ্রাই’ জলের মধ্যে বেরিয়ে আসে।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, প্রকৃতির এই ব্যতিক্রমী ব্যবস্থার ফলে পুরুষ যখন বাচ্চা লালন-পালনে ব্যস্ত থাকে, তখন স্ত্রী সি হর্স দ্রুত আবার নতুন ডিম উৎপাদনের জন্য শক্তি সঞ্চয় করতে পারে, যা তাদের প্রজাতিকে দ্রুত বংশবৃদ্ধিতে সাহায্য করে। পুরুষ সি হর্সের এই প্রসব প্রক্রিয়া প্রকৃতির এক অনন্য বিস্ময়।
সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফি
ডিবিসি/এনএসএফ