জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নিহত পুলিশ সদস্যদের বিচারের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ওই ঘটনার ফয়সালা যুদ্ধের ময়দানেই হয়ে গেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মুলতবি বৈঠকে এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
অধিবেশনে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, জুলাই আন্দোলনে পুলিশ বাহিনীর চালানো হত্যাযজ্ঞ ও নিপীড়নের ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে কি না। এছাড়া, আগস্টের ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ বর্তমানে ‘পুলিশ হত্যা’ নামক যে ফ্রেম দাঁড় করিয়ে পুলিশ বাহিনীর ভেতরে একধরনের বিশৃঙ্খলা ও অস্পষ্টতা তৈরির চেষ্টা করছে, তা নিরসনে মন্ত্রণালয়ের কোনো উদ্যোগ আছে কি না, সে বিষয়েও তিনি মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এটিকে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক প্রশ্ন হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা বা ইনডেমনিটি দেওয়ার ক্ষেত্রে জুলাই জাতীয় সনদে অঙ্গীকার করা হয়েছে। সেই অঙ্গীকারের আলোকেই বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ‘জুলাই যোদ্ধা সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ জারি করা হয়, যা বর্তমানে সংসদে উপস্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশের অন্তর্ভুক্ত। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর পুলিশ হত্যার বিচারের দাবির সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, কেউ যদি এখন ১৯৭১ সালে রাজাকার হত্যার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের বিচারের দাবিতে মামলা করে, তবে কি সেই বিচার করা হবে?
গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের প্রাণহানির প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, সেসময় যারা হানাদার বাহিনীর মতো রাজপথে আন্দোলনকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে গণহত্যা ও ম্যাসাকার চালিয়েছে, ক্ষুব্ধ জনতার তীব্র প্রতিরোধের মুখে তাদের কেউ কেউ হয়তো নিহত বা আহত হয়েছেন। কিন্তু এই পুরো বিষয়ের মীমাংসা যুদ্ধের ময়দানেই হয়ে গেছে। জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষায় জারি করা অধ্যাদেশটি গ্রহণের বিষয়ে সবাই সর্বসম্মতভাবে একমত হয়েছেন জানিয়ে তিনি প্রশ্নকারী সংসদ সদস্যকে আশ্বস্ত করেন যে, এ বিষয়ে গোটা জাতি আজ সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ।
ডিবিসি/এফএইচআর