নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য প্রথমবারের মতো চালু হওয়া পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদানে কেউ অনিয়ম বা জালিয়াতি করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এই অপরাধের সাথে জড়িতদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক করা, ফৌজদারি মামলা দায়ের এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে বাংলাদেশে ফেরত আনার (ডিপোর্ট) ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও মিশন প্রধানদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার এসব কথা বলেন।
আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, আমরা ক্যাটাগরিক্যালি সবাইকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি, কোনো অবস্থাতেই যেন ইলেক্টোরাল ইন্টিগ্রিটি (নির্বাচনের স্বচ্ছতা) নষ্ট না হয়। পোস্টাল ব্যালট নিয়ে হীন স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে কেউ যদি ধরা পড়েন, তাহলে বিন্দুমাত্র কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি যে দলেরই সমর্থক হোন না কেন, তার এনআইডি কার্ড ব্লক করা থেকে শুরু করে ক্রিমিনাল চার্জ আনা হবে এবং প্রয়োজনে তাকে সেই দেশ থেকে বাংলাদেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কেউ যেন না ভাবেন যে নির্বাচন কমিশন ঘুমাচ্ছে আর আপনারা যা ইচ্ছা তাই করবেন। এটা হতে দেওয়া হবে না।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, এর সাথে আমাদের ভাবমূর্তি এবং শ্রমবাজার জড়িত। এই ধরনের কোনো ঘটনা যদি কোথাও ঘটে, তাতে আমাদের লেবার মার্কেটেও প্রভাব পড়বে।
তিনি বলেন, আমরা প্রথমবারের মতো এই ভোটের ব্যবস্থা করছি। আমাদের বাস্তবতা আমরা জানি। কোন পরিবেশে আমাদের রেমিটেন্স যোদ্ধারা বাস করেন, তা আমাদের অজানা নয়। সব জেনেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। ৫০ থেকে ৫৫ বছরের প্রত্যাশা—যেটা আমরা বাস্তবায়ন করার একটা উদ্যোগ নিয়েছি। হীন স্বার্থে বা ব্যক্তিস্বার্থে যেন এটা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
প্রবাসীদের হাতে পোস্টাল ব্যালট পৌঁছানোর পরিসংখ্যান তুলে ধরে এই নির্বাচন কমিশনার জানান, বাংলাদেশ পোস্ট অফিস থেকে এখন পর্যন্ত প্রবাসীদের ঠিকানায় ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৮৪টি ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রবাসীরা হাতে পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৭৩টি ব্যালট। ঠিকানা ভুল থাকায় মালয়েশিয়া, ইতালিসহ কয়েকটি দেশ থেকে ৪ হাজার ৫২১টি ব্যালট ফেরত এসেছে।
মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়ায় একই ঠিকানায় একাধিক ভোটারের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রবাসী ভাইদের অনেকে স্বল্প পরিসরে থাকেন এবং তাদের ব্যক্তিগত ঠিকানা নেই। ফলে অনেকে পোস্টবক্স বা কোনো দোকানের ঠিকানা ব্যবহার করেছেন। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১০০ জনের বেশি ভোটার একই ঠিকানা ব্যবহার করেছেন—এমন সংখ্যা ১৪ হাজার ৮৯১ জন।
সম্প্রতি বাহরাইন, ওমান ও কুয়েত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টাল ব্যালট বিতরণের কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার বিষয় উল্লেখ করে তিনি জানান, কমিশন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোর সঙ্গে কথা বলেছে।
তিনি বলেন, বাহরাইনে গ্রুপ ডিস্ট্রিবিউশনের একটি ভিডিও নজরে আসার পর সেখানে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন সেখানে সিপিআর (আইডি কার্ড) না দেখানো পর্যন্ত কাউকে ব্যালট দেওয়া হচ্ছে না। সৌদি আরবে ইকামা বা ৫ ডিজিটের কোড ছাড়া এবং ওমানে পাসপোর্ট বা আইডি কার্ড দেখানো ছাড়া ব্যালট হস্তান্তর করা হচ্ছে না। ওমানে স্বামীর ব্যালট স্ত্রীকেও দেওয়া হচ্ছে না।
ভোটের গোপনীয়তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ‘লাইভ ভেরিফিকেশন’ বিষয়ে তিনি বলেন, যদি দেখি কোথাও ব্যত্যয় ঘটছে, তাহলে লাইভ ভেরিফিকেশন কম্পালসারি (বাধ্যতামূলক) করে দেব। তাতে যত ভোট নষ্ট হয় হোক, লাইভ ভেরিফিকেশন ছাড়া কারো ভোট আমরা গ্রহণ করব না।
এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘আগামী ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও প্রতীক বরাদ্দের পর আমরা দেশ থেকে পোস্টাল ব্যালটের পরিবর্তে প্রার্থীর নাম ও প্রতীকসহ একচুয়াল (প্রকৃত) ব্যালট পাঠানোর চেষ্টা করছি। যদি সময়ের মধ্যে প্রিন্ট করা সম্ভব হয়, তবে আমরা আগের সিদ্ধান্ত রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) করব। এ বিষয়ে শুক্রবার কমিশনের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যাদের কোনো অভিযোগ আছে তারা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে বা কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে অভিযোগ করতে পারেন। কমিশন নিয়মিত এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
ডিবিসি/কেএলডি