ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সারা দেশের কারাগারগুলোতে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে কারাবন্দি ভোটারদের ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন কারাগারে আটক মোট ৫ হাজার ৯৬০ জন বন্দি ভোটার কারা কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় নিজ নিজ কারাগারে স্থাপিত নির্ধারিত বুথে প্রবেশ করে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
নির্বাচন কমিশনের পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই কারাগারগুলোতে স্থাপিত বুথে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এদিন ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন কারা-মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।
পরিদর্শনকালে আইজি প্রিজন জানান, সারা দেশের কারাগারগুলোতে থাকা ৫ হাজার ৯৬০ জন বন্দি আজ থেকে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আগেই ডাকযোগে খামযুক্ত পোস্টাল ব্যালট পেপার সংশ্লিষ্ট সব কারাগারে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
সময়সীমা প্রসঙ্গে তিনি জানান, বন্দিদের ভোটগ্রহণ কার্যক্রমটি পূর্বে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। তবে ৪ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি থাকায় নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণের সময়সীমা একদিন বাড়িয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ)-এর সিনিয়র জেল সুপার সুরাইয়া আক্তার জানান ভোটগ্রহণের আগে বন্দিদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার নিয়মাবলি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ভোটাররা সুশৃঙ্খলভাবে ও সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রেখে বুথে প্রবেশ করে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন।
কেরানীগঞ্জ কারাগারে সকাল ১১টা থেকে ১০টি বুথে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে তা বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে।
কারা সূত্রে, দেশের সব কারাগারের মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে (কেরানীগঞ্জ) সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোটার রয়েছেন, যার সংখ্যা আনুমানিক ৬০০ জনের বেশি। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের বিরোধিতাকারী বন্দিদের কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগারে রাখা হয়েছে। সেখানেও দুটি বুথে ভোটগ্রহণ চলছে। তবে মঙ্গলবার কোনো রাজনৈতিক বন্দি ভোট দেননি; শুধুমাত্র সাধারণ কয়েদিরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
আগামী ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি রাজনৈতিক বন্দিরা তাদের ভোট দেবেন বলে জানা গেছে। নিয়ম অনুযায়ী, কারাবন্দি ভোটাররা তাদের নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকার প্রার্থীদের পক্ষে এই পোস্টাল ব্যালট ব্যবহার করছেন।
ডিবিসি/এএমটি