আন্তর্জাতিক, আরব

বিশ্বের বৃহত্তম ভাসমান ও চলমান শহর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

বুধবার ২১শে জুন ২০২৩ ০৬:২০:১৭ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

আজ থেকে কয়েক কোটি বছর আগে পৃথিবীর বুকে বিরাজ করতো প্যানজিয়া নামে এক বিরাট মহাদেশ। সেই মহাদেশ অজানা কারণে কালের গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। তবে ২০ থেকে ৩৩ কোটি বছর পর সেই মহাদেশের নামে একটি ভাসমান ও চলমান শহর তৈরি হতে যাচ্ছে সৌদি আরবে।

সৌদি আরবের এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হয়ে গেলে প্যানজিওস হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভাসমান কাঠামো। প্যানজিওসের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৮০০ কোটি ডলার। নকশা করেছে প্রখ্যাত নকশাকার ফার্ম ল্যাজারিনি।

ল্যাজারিনির নকশায় তৈরি হতে যাওয়া এই অতিকায় প্রমোদতরীর দৈর্ঘ্য হবে ৫৫০ মিটার এবং প্রস্থ হবে ৬১০ মিটার। সুবিশাল এই প্রমোদতরীর আকৃতি হবে অনেকটা কচ্ছপের মতো।  

ল্যাজারিনি জানিয়েছে, অতিকায় এই প্রমোদতরীতে থাকবে বিভিন্ন ধরনের হোটেল, মোটেল, আবাসিক ভবন,শপিং মল এবং পার্কসহ বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা। এ ছাড়া ছোট ছোট বিভিন্ন জাহাজ ভেড়ানোর জন্য থাকবে ছোট আকারের বন্দর সুবিধাও। থাকবে বিমান এবং হেলিকপ্টার অবতরণের সুবিধাও।  
 
অতিকায় কচ্ছপ আকৃতির এই প্রমোদতরীটি তৈরির জন্য এটি একটি বিশেষ জায়গার প্রয়োজন হবে যা বর্তমানে বিদ্যমান নেই। তারা প্রমোদতরীটির সম্ভাব্য নির্মাণস্থল হিসেবে সৌদি আরবকে বেছে নিয়েছেন বলে জানান ল্যাজারিনি।

তিনি আরও জানান,প্রমোদতরী নির্মাণের জন্য প্রায় এক বর্গকিলোমিটার সমুদ্র ড্রেজিং করতে হবে এবং নির্মাণ শুরু করার আগে সেখানে একটি বৃত্তাকার বাঁধ তৈরি করতে হবে। প্রাথমিকভাবে ল্যাজারিনি সৌদি আরবের কিং আবদুল্লাহ বন্দরের একটি জায়গাকে নির্ধারণ করেছেন। যা জেদ্দা থেকে ৮১ মাইল উত্তরে অবস্থিত।   

প্যানজিওস নামে এই ভাসমান ও চলমান শহরটি বিভিন্ন ব্লকে বিভক্ত থাকবে। নকশাকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, শহরটির কাঠামোর নিচের দিকে সবমিলিয়ে বিভিন্ন আকৃতির ৩০ হাজার সেল থাকবে যা শহরটিকে ভাসমান রাখতে সহায়তা করবে। এর নীলনকশা অর্থাৎ যে অংশটুকু পানির নিচে থাকবে তার উচ্চতা হবে ৩০ মিটার। এ ছাড়া এই শহরটি সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ৫ নট বেগে চলতে পারবে।
 
পুরো শহরটির জ্বালানি বা বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাবে এর দুটি ডানা। এই ডানাগুলো সমুদ্রের ঢেউ থেকে শক্তি সংগ্রহ করে ইঞ্জিনকে চলতে সাহায্য করবে। এ ছাড়া অতিকায় এর  ছাদে থাকবে সোলার প্যানেল যা পুরো শহরের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাবে।  
 
ল্যাজারিনি আশা প্রকাশ করেছে, চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালের মধ্যেই প্রমোদতরীটি নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এটি  নির্মাণে সময় লাগবে আট বছর। তবে প্রমোদতরীটি নির্মাণে কারা অর্থ বিনিয়োগ করবে সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ল্যাজারিনি।

সূত্র: সিএনএন

আরও পড়ুন