আন্তর্জাতিক, আমেরিকা

প্রথমবারের মতো ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের লাগাম টানল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ বা যুদ্ধ চালানোর ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একচ্ছত্র ক্ষমতা সীমিত করতে একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব পাস করেছে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ। ডেমোক্র্যাটদের আনা এই প্রস্তাবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে চারজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা সমর্থন দেওয়ায় এটি পাস হয়।

জর্ডানের একটি ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর বৃহস্পতিবার নিম্নকক্ষে ভোটাভুটির আয়োজন করা হয়। তীব্র লড়াই শেষে ২১৪-২০৮ ভোটের ব্যবধানে প্রস্তাবটি পাস হয়।

 

প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি পাস হলেও কিছুক্ষণ পরই মার্কিন সিনেটে উত্থাপিত একটি অনুরূপ প্রস্তাব ৪৭-৪৯ ভোটে বাতিল হয়ে যায়। এর আগের একটি প্রস্তাবে সমর্থন দেওয়া দুজন রিপাবলিকান সদস্য অনুপস্থিত থাকায় সিনেটে আইনি লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়ে ডেমোক্র্যাটরা।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া এই বিলটি যদি যৌথ প্রস্তাব হিসেবেও পাস হয়ে প্রেসিডেন্টের টেবিলে পৌঁছাত, তবে ট্রাম্প সেখানে তাঁর 'ভেটো' ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারতেন। আর সেই ভেটো বাতিল করতে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হতো।

 

জুলাইয়ের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা ১২ দিন ধরে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা ও স্থল অভিযানের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে নিম্নকক্ষের এই পদক্ষেপকে হোয়াইট হাউসের জন্য বড় এক রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

ভোটাভুটির আগে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা প্রমিলা জয়পাল ফ্লোরে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আমেরিকান জনগণের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আমাদের দেখাতেই হবে। প্রেসিডেন্টকে এবার অত্যন্ত স্পষ্ট ও জোরালো বার্তা দেওয়ার সময় এসেছে সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার চূড়ান্ত কর্তৃত্ব একমাত্র কংগ্রেসের। অবিলম্বে এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত বন্ধ করতে হবে।’

 

মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, যুদ্ধ ঘোষণার একমাত্র অধিকার কংগ্রেসের। যদিও আত্মরক্ষার অজুহাতে দেশটির প্রেসিডেন্টরা সরাসরি সেনা মোতায়েন করে থাকেন।

 

১৯৭৩ সালের 'ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্ট' অনুযায়ী, সেনা মোতায়েনের ৬০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্টের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছিল, এপ্রিলে যুদ্ধবিরতির ফলে আগের সংঘাত 'শেষ' হয়েছিল এবং বর্তমান হামলাগুলো নতুন এক প্রেক্ষাপট। তবে আইন বিশেষজ্ঞ ও বহু কংগ্রেস সদস্য একে স্পষ্ট আইনি লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন।

 

সংবিধান বিষয়ক পর্যবেক্ষণ সংস্থা প্রজেক্ট অন গভর্নমেন্ট ওভারসাইট -এর ডেভিড জানোভস্কি বলেন, ‘কংগ্রেসে আজকের এই জয় আমেরিকান জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন। সাধারণ মানুষ কোনো অবৈধ ও অননুমোদিত যুদ্ধ দেখতে চায় না। প্রেসিডেন্টের জন্য নির্ধারিত সাংবিধানিক সময়সীমা মাস আগেই পার হয়ে গেছে।’

 

উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রতিনিধি পরিষদে ১.১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি সুবিশাল প্রতিরক্ষা বাজেট পাস হয়েছে, যার বড় একটি অংশ যুদ্ধের তহবিলে যাওয়ার কথা। সিনেট এখনো প্যাকেজটি অনুমোদন করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, সত্যিই যদি কংগ্রেস ট্রাম্পকে যুদ্ধে থামাত চায়, তবে যুদ্ধ তহবিলের এই অতিরিক্ত অর্থায়নের অনুরোধও তাদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে।

 

সূত্র: আলজাজিরা

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন