দেশের পোল্ট্রি শিল্প ও রপ্তানি খাতে নতুন এক মাইলফলক স্থাপন করেছে কাজী ফার্মস গ্রুপ। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে বাণিজ্যিকভাবে হ্যাচিং (বাচ্চা উৎপাদনক্ষম) ডিম রপ্তানি শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রথম পরীক্ষামূলক চালানে ১০ হাজার হ্যাচিং ডিম পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় পাঠানো হয়েছে।
রবিবার (২৮ জুন) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে চালানটি পাঠানো হয়। এই উদ্যোগকে দেশের কৃষিভিত্তিক রপ্তানি বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রপ্তানিকৃত হ্যাচিং ডিমগুলো কাজী ফার্মস গ্রুপের পঞ্চগড়ে অবস্থিত ব্রয়লার গ্র্যান্ড প্যারেন্ট (Grand Parent) ফার্মে আন্তর্জাতিক মানের কঠোর বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থার আওতায় উৎপাদিত হয়েছে।
ডিম রপ্তানি উপলক্ষে বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, কাজী ফার্মস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এসময় প্রতিমন্ত্রী হ্যাচিং ডিমের চালান পরিদর্শন করেন এবং কাজী ফার্মসের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দেশের পণ্য যত বেশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করবে, ততই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও তিনি কাজী ফার্মস গ্রুপকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান বলেন, হ্যাচিং ডিম রপ্তানি দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও রপ্তানিমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ সরকারের রপ্তানি বহুমুখীকরণ লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।
কাজী ফার্মস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল হাসান প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, পরীক্ষামূলক এই চালান সফল হলে ভবিষ্যতে হ্যাচিং ডিমের পাশাপাশি খাদ্যোপযোগী (টেবিল) ডিমও নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে দেশের পোল্ট্রি শিল্প অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, হ্যাচিং ডিম রপ্তানির এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং কৃষিভিত্তিক রপ্তানিতে নতুন গতি যোগ করবে।
ডিবিসি/এফএইচআর