সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেছেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ বাস্তবায়নে বুক বেঁধে আছে পদ্মা পাড়ের জনগণ। রাজবাড়ীসহ এই অঞ্চলের ২৪ জেলার জনগণ প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। কারণ প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা ও ব্যক্তিগত উদ্যোগ ছাড়া এ প্রকল্প কখনোই হয়তো পাস হতো না।
শনিবার (২০ জুন) জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী জানান, সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্প ইতিমধ্যে একনেকে পাস হয়েছে এবং ২০৩৩ সালের জুনের মধ্যে এর কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের নদী ব্যবস্থাপনা ও কৃষি উৎপাদনে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এখন আর কোনো স্বপ্ন নয়, বরং দৃশ্যমান বাস্তবতা।
প্রকল্পের পরিসংখ্যান ও গুরুত্ব তুলে ধরে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, এটি ২৪টি জেলার ১৬১টি উপজেলার পাঁচ কোটি মানুষের ভাগ্য বদলে দেবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২ লাখ হেক্টরের বেশি এক ফসলি জমি দুই ফসলি এবং ১ লাখ হেক্টরের বেশি জমি তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হবে। ফলে বোরো ধানের হেক্টর প্রতি উৎপাদন ৪.৫-৫ টন থেকে বেড়ে ৬-৭ টনে উন্নীত হবে।
এছাড়া গমের উৎপাদন ৩.৫ টন থেকে ৪.৫ টন, ভুট্টার উৎপাদন ৮ টন থেকে ১০-১২ টন এবং আলুর উৎপাদন ২৫ টন থেকে বেড়ে ৩০-৩৫ টনে পৌঁছাবে। লবণাক্ত পানির পরিবর্তে মিঠা পানি আসায় কৃষকের গড় আয় ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে এবং ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে নদীর নাব্যতা রক্ষা ও তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীভাঙনের হার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি ২০ থেকে ৩০ শতাংশ হ্রাস পাবে। ফলে প্রতি বছর ১০ থেকে ১৫ হাজার পরিবার ভাঙনের হাত থেকে বাঁচবে এবং ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ সুরক্ষা পাবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দশকে পদ্মা বিধৌত এলাকায় প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, যা এখন রোধ করা সম্ভব হবে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সেচ ও কৃষি সম্প্রসারণের ফলে এই অঞ্চলে ১ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। যেখানে নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে ১ থেকে ২ লাখ অতিরিক্ত কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক অভূতপূর্ব গতি সঞ্চার হবে।
ডিবিসি/ এমএনকে