বাংলাদেশ, জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনের তার ভাঙারি দোকানে বিক্রি

ডেস্ক প্রতিবেদন

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ‘লাল টেলিফোন’ সংযোগের তামার তার চুরির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। চুরি হওয়া তার উদ্ধারসহ এই ঘটনায় জড়িত এক আউটসোর্সিং কর্মী ও এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে সিটিটিসির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্র (২৫) এবং ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলাম (৩২)।


সিটিটিসি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সচিবালয়ে অত্যন্ত সুরক্ষিত লাল টেলিফোন সংযোগের তার চুরির বিষয়টি প্রকাশ পেলে প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। ঘটনার গুরুত্ব ও স্পর্শকাতরতা বিবেচনা করে সিটিটিসির ‘সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ’ স্বপ্রণোদিত হয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে।


গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় সিটিটিসি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রঞ্জন স্বীকার করেন যে, গত ২২ মে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবন থেকে তিনি কৌশলে এই তামার তারগুলো চুরি করেছিলেন। পরবর্তীতে ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনের একটি ভাঙারি দোকানে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে মোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তার বিক্রি করে দেন।


রঞ্জনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিটিটিসি তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী রাজধানীর হোসেনী দালান রোডের একটি গুদাম থেকে চুরি হওয়া সম্পূর্ণ তামার তার উদ্ধার করা হয়।


প্রাথমিক তদন্ত শেষে সিটিটিসি জানায়, সচিবালয়ের মতো সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টিত এলাকায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংযোগের তার চুরির পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে। এই চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


এই বিষয়ে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি তদন্ত করছি। ইতিমধ্যে মূল অভিযুক্তসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং চুরি হওয়া ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তার উদ্ধার করা হয়েছে। চোরাই তার কেনার অপরাধে ভাঙারি দোকানের মালিককেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।


এ ঘটনায় জড়িত বাকিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার।


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন