রাজধানীর শান্তিনগর এলাকা থেকে অপহৃত নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করার পাশাপাশি সংঘবদ্ধ অপহরণ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে রমনা মডেল থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। বৃহস্পতিবার ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া চার অপহরণকারী হলো তানভীর আহমেদ ওরফে ফাহিম, ইফফাত ইয়ামিন ওরফে লিখন, হাসান আল বান্না ওরফে হাসান এবং মুস্তাকিমুর রহমান ওরফে কুঞ্জ।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে, যখন ওই শিক্ষার্থী শান্তিনগর মোড়ে আল মদিনা প্যালেসের বাটা শোরুমের সামনে অবস্থান করছিল। সে সময় চক্রের এক সদস্য অত্যন্ত সুকৌশলে তাকে চামেলীবাগের একটি নির্মাণাধীন দশতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে। এরপর অপহরণকারীরা ছেলেটির নিজের মোবাইল ফোন থেকেই তার মায়ের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরবর্তীতে তারা ছেলেটির বাবাকেও ফোন করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে চাপ দেয় এবং মুক্তিপণ না দিলে ছেলেটিকে হত্যার সরাসরি হুমকি দেয়।
এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে নিরুপায় হয়ে ছেলেটির বাবা, যিনি পেশায় সচিবালয়ের একজন কর্মী, বিষয়টি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আনেন। ঘটনাটি জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের নির্দেশ দেন। সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই নির্দেশনার পরপরই রমনা মডেল থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে মাঠে নামে। তারা অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপহরণকারীদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করে অপহৃত ছাত্রকে নিরাপদে উদ্ধার করে এবং জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা তাদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, এর আগেও তারা অন্তত ছয়টি অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছে এবং তাদের নামে একাধিক মামলা চলমান আছে। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে পরস্পর যোগসাজশে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইলিং এবং অপহরণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত এই চারজনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ডিবিসি/এফএইচআর