মরণঘাতী হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়া একটি প্রমোদতরি থেকে নিজ দেশে ফেরা একজন মার্কিন এবং একজন ফরাসি নাগরিকের শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। এমভি হন্ডিয়াস নামক জাহাজটির যাত্রীদের মধ্যে এই প্রাদুর্ভাবের ফলে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সোমবার জানিয়েছে, এই প্রমোদতরির সাথে সংশ্লিষ্ট মোট সাতজনের শরীরে হান্টাভাইরাস নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আরও দুজন আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
মার্কিন স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বিশেষ বিমানে ফিরিয়ে আনা আমেরিকানদের মধ্যে দ্বিতীয় একজনের শরীরেও মৃদু উপসর্গ দেখা দিয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের বায়োকন্টেইনমেন্ট ইউনিটে করে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট জানিয়েছেন, প্যারিসে আক্রান্ত এক নারী আইসোলেশনে আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। ইতোমধ্যে তার সংস্পর্শে আসা ২২ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুর ও কাঠবিড়ালি জাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়। তবে ডব্লিউএইচও-র মতে, দক্ষিণ আমেরিকায় সংক্রমিত এই বিশেষ অ্যান্ডিজ স্ট্রেইন মানুষের শরীর থেকে অন্য মানুষের শরীরেও ছড়াতে পারে। এই ভাইরাসের প্রধান লক্ষণগুলো হলো: তীব্র জ্বর ও পেশিতে ব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি ও পেট ব্যথা, বমিভাব ও ডায়রিয়া এবং শ্বাসকষ্ট।
বর্তমানে স্পেনের কানারি দ্বীপপুঞ্জের তেনেরিফে বন্দরে নোঙর করে আছে এমভি হন্ডিয়াস। জাহাজটি থেকে ৯০ জনেরও বেশি যাত্রীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। স্প্যানিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া জানিয়েছেন, জাহাজে এখনো ৫৪ জন যাত্রী ও ক্রু রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র তাদের ১৭ জন নাগরিককে নেব্রাস্কার একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে। এছাড়া যুক্তরাজ্য থেকে আসা ২০ জন যাত্রীকে লিভারপুলের অ্যারো পার্ক হাসপাতালে ৭২ ঘণ্টার আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। কানাডায় ফেরা চার যাত্রীকেও তিন সপ্তাহের জন্য সেলফ-আইসোলেশনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়ায়া থেকে যাত্রা শুরু করেছিল এমভি হন্ডিয়াস। গত ১১ এপ্রিল জাহাজে একজন প্রবীণ ডাচ নাগরিকের প্রথম মৃত্যু ঘটে। এরপর ২৬ এপ্রিল দক্ষিণ আফ্রিকায় তার স্ত্রী এবং ২ মে জাহাজে থাকা একজন জার্মান নারী মৃত্যুবরণ করেন। মৃতদের মধ্যে দুজনের শরীরে হান্টাভাইরাস নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ডব্লিউএইচও-র প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস সতর্ক করে বলেছেন, হান্টাভাইরাস মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক গাইডলাইন পুরোপুরি অনুসরণ না করলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। সংস্থাটি এই জাহাজ থেকে ফেরা ব্যক্তিদের জন্য ৪২ দিনের আইসোলেশনের সুপারিশ করেছে।
সূত্র: বিবিসি
ডিবিসি/এসএফএল