প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আইলার ১৩ বছর আজ। ভয়ঙ্কর ওই ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয় গোটা উপকূলীয় এলাকা। ভয়াবহ সেই দৃশ্য এখনও ভুলতে পারেননি খুলনার উপকূলবাসী। ভবিষ্যতে এ ধরনের দূর্যোগ মোকাবিলায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
২০০৯ সালের ২৫শে মে খুলনার উপকূলীয় এলাকায় প্রবল বেগে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় আইলা। ধেয়ে আসা জলোচ্ছ্বাস তছনছ করে দেয় জনপদের সবকিছু। মূহুর্তেই পাল্টে যায় জনপদসহ জীবন চিত্র।
কেড়ে নেয় উপকূলীয় এলাকার ১৯০ জনের তরতাজা প্রাণ। আহত হয় আরও ৭ হাজার ১০৩ জন। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রায় ৪৮ লাখ মানুষ। স্বজন আর সম্পদ হারানোর সেই ক্ষত আজও ভুলতে পারেনি তারা।
স্থানীয়রা বলেন, ’আইলার তাণ্ডবের পর পানিতে ডুবে যায় রাস্তাঘাট। ব্যাহত হয় স্বাভাবিক জীবন যাপন। এমনকি দু-একদিন না খেয়েও থাকতে হয়। বাড়িঘর সব কিছু জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যায়।’
উপকূলীয় মানুষের কথা মাথায় রেখে পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকাতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি পরিবেশ অধিদপ্তরের।
খুলনা পরিবেশ অধিদপ্তর বিভাগীয় পরিচালক মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের পর জলোচ্ছাসে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেড়িবাঁধটা যদি ঠিকমত তৈরি করা যেত তাহলে এটা থেকে রক্ষা পাওয়া যেত। এখন আমরা যদি গাছ লাগাতে পারি, তাহলে পরিবেশের ভারসাম্য কিছুটা রক্ষা করা যাবে।’
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান, বেড়িবাঁধের জন্য অর্থ অনুমোদন মিলেছে। দ্রুতই শুরু করা হবে কাজ।
খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান বাবু টেলিফোনে জানান, এই অঞ্চলগুলোর জনগণের দুর্দশার কথা চিন্তা করে বেড়িবাঁধের জন্য অর্থ অনুমোদনের প্রকল্প পাশ করা হয়েছে। সেগুলো ইতিমধ্যেই টেন্ডারে স্বল্পসময়ের মধ্যেই চলে যাচ্ছে এবং শুকনা সময়ে আমাদের কাজ হবে।
উপকূলবাসীদের সুরক্ষায় শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ বাস্তবায়নের দাবি উপকূলবাসীর।