দীর্ঘ ৫২ বছর অর্থাৎ প্রায় ১৯ হাজার দিনের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও গোলের দেখা পেয়েছে হাইতি। ১৯৭৪ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কিংবদন্তি ফুটবলার ইমানুয়েল মান্নো সাননের গোলের পর আর কোনো বিশ্বকাপে গোল করতে পারেনি ক্যারিবীয় দেশটি। অবশ্য এই দীর্ঘ সময়ে তারা বিশ্বকাপের মূল পর্বেই খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।
২০২৬ আসরে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলটি নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে স্কটল্যান্ড ও ব্রাজিলের বিপক্ষে কোনো গোল করতে পারেনি এবং টানা দুই হারে টুর্নামেন্ট থেকে তাদের বিদায়ও আগেই নিশ্চিত হয়ে যায়।
তবে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেলেও নিজেদের শেষ ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই করে সবাইকে চমকে দেয় হাইতি। আটলান্টা স্টেডিয়ামে ম্যাচের ১০ মিনিটে চমৎকার এক ব্যাকহিল ফিনিশে বল জালে পাঠিয়ে ইতিহাস গড়েন জোসেফ। ডান প্রান্ত থেকে ডুভের্নের নিচু ক্রস পেয়ে করা তাঁর এই গোলটির মাধ্যমেই হাইতির দীর্ঘ ৫২ বছরের বিশ্বকাপ গোল-খরা দূর হয়। এই ঐতিহাসিক গোলের পর উল্লাসে ফেটে পড়েন হাইতির খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সমর্থকেরা, যা বলে দিচ্ছিল মুহূর্তটি তাদের জন্য কতটা বিশেষ ছিল।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই আরও একটি গোলের দেখা পায় হাইতি, যেখানে এবার নায়ক ছিলেন উইলসন ইসিডর। পেনাল্টি বক্সের বাইরে ডান প্রান্তে বল পেয়ে এক টাচে নিজের জন্য জায়গা তৈরি করে দুর্দান্ত এক শটে বল জালের ওপরের কোণে জড়ান তিনি। অসাধারণ সেই গোলটি ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোলের আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে। বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেলেও মরক্কোর বিপক্ষে হাইতির এমন অনবদ্য পারফরম্যান্স এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিশ্বকাপে গোল পাওয়ার এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি দেশটির ফুটবল ইতিহাসে চিরকাল বিশেষ হয়ে থাকবে।
ডিবিসি/এফএইচআর