বাংলাদেশ, জাতীয়

প্লট দুর্নীতির ২ মামলায় শেখ হাসিনার ১০ ও টিউলিপের ৪ বছরের কারাদণ্ড

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা দুই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর বোন শেখ রেহানার দুই মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক ও ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির বিভিন্ন মেয়াদে জেল ও জরিমানা করেছেন আদালত।

দুই মামলার একটি আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে। এই মামলায় আজমিনাকে ৭ বছর, টিউলিপকে ২ বছর ও শেখ হাসিনাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাঁদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ার আদেশ দেন আদালত।

 

অন্য মামলাটি রাদওয়ানের বিরুদ্ধে। এই মামলায় রাদওয়ানকে ৭ বছর, টিউলিপকে ২ বছর ও শেখ হাসিনাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক।

 

গত ১৩ ও ১৮ জানুয়ারি এই আদালত পৃথক এই দুই মামলার রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন (সোমবার) ধার্য করেছিলেন।

 

ওই মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশের মাধ্যমে এই শহরে বাড়ি বা ফ্ল্যাট বা আবাসন সুবিধা থাকার পরও সেই তথ্য গোপন করেছেন। এর ফলে প্লট বরাদ্দে আইন, বিধি, নীতিমালা ও আইনানুগ পদ্ধতি লঙ্ঘন হয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা অপব্যবহার করে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রভাবিত করেছেন। এছাড়া মামলার আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে নিজেরা লাভবান হয়ে ও অন্যকে লাভবান করার উদ্দেশ্যে পূর্বাচলের নতুন শহর প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রাস্তার ১০ কাঠা করে প্লট তাঁদের নামে বরাদ্দ দেন।

 

অন্যদিকে, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া।

 

মামলায় টিউলিপ, শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় আজমিনা ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন শেখ হাসিনা, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, পরিচালক কামরুল ইসলাম, উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ, পরবর্তী সময়ে যুক্ত হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ। তাঁদের মধ্যে কেবল খুরশীদ আলম গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

 

তদন্ত শেষে গত বছরের ১০ মার্চ আরও দুই আসামিসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।  এরপর গত বছরের ৩১ জুলাই ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। এরপর ১৩ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয় এ বছরের ৫ জানুয়ারি।

মামলায় মোট ৩১ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এরপর মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ১৩ জানুয়ারি রায় ঘোষণার তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেন।

 

এছাড়া রাদওয়ান সিদ্দিক ববির বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান। ববিও  ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন বলে মামলার অভিযোগ উল্লেখ করেছেন বাদী।

এ মামলায় টিউলিপ রিজওয়ানা, শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে একই বছরের ১০ মার্চ ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দাখিল করা হয়।

৩১ জুলাই ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হওয়ার পর ১৩ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। মামলায় মোট ২৮ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

এ মামলায় গত ১৮ জানুয়ারি  শুনানি শেষ হওয়ার পর ২ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করেন আদালত। মামলার ১৮ আসামির মধ্যে খুরশীদ আলম কারাগারে রয়েছেন।


 

 

 

 

 


ডিবিসি/এমইউএ

আরও পড়ুন