ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ফুটবল খেলার মাইকিংকে কেন্দ্র করে চার গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যার পর শুরু হওয়া এই উত্তেজনা শনিবার সকালেও গড়ায় ব্যাপক সংঘর্ষে। এতে পুলিশ, সাংবাদিক ও গ্রামবাসীসহ অন্তত ১০০ জন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, দুদিন আগে মুনসুরাবাদ গ্রামের রাহাত নামের এক কিশোর ফুটবল খেলার মাইকিং করার সময় খাপুরা, সিংগারডাক ও মাঝিকান্দা গ্রামের কয়েকজন যুবক তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেন। ওই ঘটনার জেরে শুক্রবার সন্ধ্যার পর মুনসুরাবাদ বাজারে টানা আড়াই ঘণ্টা সংঘর্ষ হয়। রাত হয়ে যাওয়ায় পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হলেও, আজ শনিবার সকাল ৭টা থেকে আবারও ওই চার গ্রামের মানুষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, ফরিদপুর-ভাঙ্গা-খুলনা মহাসড়কের মুনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই সংঘর্ষ চলছে। এক পক্ষে মুনসুরাবাদ গ্রামের লোকজন এবং অপর পক্ষে খাপুরা, সিংগারডাক ও মাঝিকান্দা গ্রামের লোকজন ঢাল-সড়কিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাসস্ট্যান্ড ও হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অবস্থান নেন। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে।
স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের একাধিক দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও সংঘর্ষ চরম আকার ধারণ করায় তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। দ্রুত পরিস্থিতি শান্ত করা না গেলে বড় ধরনের হতাহতের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, পরিস্থিতি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। ফরিদপুর জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে
ডিবিসি/কেএলডি