ফরিদপুরে চিকিৎসার নামে নারী নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের দায়ে মো. হানিফ শেখ নামের এক ভণ্ড কবিরাজকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত হানিফ শেখ ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ময়ানদিয়া গ্রামের মো. লাল মিয়া শেখের ছেলে।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ঝাড়ফুঁক ও অপচিকিৎসার আড়ালে নারীদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন ওই কবিরাজ। গত ২২ মার্চ ২০২৫ তারিখে ভুক্তভোগী এক নারী তার ছোট বোনের সঙ্গে আসামির বাড়িতে চিকিৎসা নিতে যান। এ সময় চিকিৎসার কথা বলে তাকে একটি টিনের ঘরে নিয়ে জোরপূর্বক যৌন নিপীড়ন করেন হানিফ শেখ। ভুক্তভোগী চিৎকার করে তার বোনকে ডাক দিলে আসামি তাকে ঘরে প্রবেশ করতে বাধা দেন। এছাড়া ঘটনাটি কাউকে জানালে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার আইনের আশ্রয় নিলে আদালত মামলার সার্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। এ বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।
ডিবিসি/আরএসএল