রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কৃষক লীগ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না মো. আমিন খন্দকারের (৪৫)। ফরিদপুরের সালথায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও বিস্ফোরকের পৃথক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চান্দাখোলা মোন্তারমোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আমিন খন্দকার উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চান্দাখোলা গ্রামের বাসিন্দা এবং সালথা উপজেলা কৃষক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। জানা যায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি বেশ কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন। পরে কৃষক লীগের পদ থেকে পদত্যাগ করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ফুলের তোড়া দিয়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। তবে দল বদল করেও শেষ পর্যন্ত মামলার হাত থেকে রেহাই পেলেন না তিনি।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বুধবার সকালে অভিযান চালিয়ে আমিন খন্দকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সম্প্রতি সোনাপুর ইউনিয়নের বড় বাংরাইল গ্রামে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল, সেই মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। ওই মামলাতেই তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, বড় বাংরাইল এলাকায় জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মনির বিশ্বাস ও মিশরু মিয়ার মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে সম্প্রতি উভয়পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জড়ো হয়ে ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকজনকে কুপিয়ে জখম করা হয় এবং উভয়পক্ষের অন্তত আটটি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এই ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ডিবিসি/পিআরএএন