ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নে চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি উজ্জ্বল খানকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে সে। রবিবার (১৭ মে) দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম এসব তথ্য জানান।
শুক্রবার (১৪ মে) ফরিদপুর সদর উপজেলার কালিতলা এলাকার একটি পুকুরপাড়ে মাটিচাপা অবস্থায় মা জাহানারা বেগম ও তাঁর শিশুকন্যা সামিয়া আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত জাহানারার পিতা লালন মোল্লা বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শনিবার (১৬ মে) দুপুরে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ থানার বকারটিলা এলাকা থেকে অভিযুক্ত উজ্জ্বল খানকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত উজ্জ্বল খান মা ও মেয়েকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তাঁর স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, গোয়ালন্দ উপজেলার কর্ণসোনা গ্রামের আমজাদ শেখের স্ত্রী জাহানারার সঙ্গে গত তিন বছর ধরে উজ্জ্বলের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। গত ৪ মে বিকালের পর মেয়েকে নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে আসেন জাহানারা। এ সময় ওই নারী তাঁকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানালে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে উজ্জ্বল সজোরে বুকে ঘুষি মারলে জাহানারা জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে উজ্জ্বল। এ সময় জাহানারার কোলে থাকা শিশুকন্যাটি কেঁদে উঠলে তাকেও একইভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ গুম করতেই পুকুরপাড়ে গর্ত করে তাদের মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয় বলে স্বীকারোক্তিতে জানান উজ্জ্বল।
ডিবিসি/আরএসএল