ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২ পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার সকাল ৮টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের জেরে ফরিদপুর-ভাঙ্গা মহাসড়কে যান চলাচল দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকে, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের আধিপত্য বিস্তার এবং মাদকের ১টি কমিটি গঠন নিয়ে মানিকদহ ইউনিয়নের সুলতান মাতুব্বর এবং হামিরদী ইউনিয়নের (মহেশ্বরদী) সিরু মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জেরে রোববার সকালে পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উভয় পক্ষের লোকজন লাঠি, সড়কি, ঢাল, তলোয়ারসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই তাণ্ডবের কারণে ফরিদপুর-ভাঙ্গা মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক শত যানবাহন আটকা পড়ে। যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগের শিকার হন সাধারণ যাত্রীরা।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে একাধিক টিয়ারশেল নিক্ষেপ করতে হয়। পরিস্থিতি বেশি উত্তপ্ত থাকায় একপর্যায়ে ফরিদপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
ডিবিসি/এমএনকে