প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে রেকর্ড সংখ্যক ৫২ জন রেফারির তালিকা ঘোষণা করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) প্রকাশিত এই তালিকায় মূল ম্যাচ পরিচালনার জন্য জায়গা করে নিয়েছেন দুজন নারী রেফারি। সব মিলিয়ে এবারের আসরে দায়িত্ব পালন করবেন ১৭০ জন ম্যাচ কর্মকর্তা।
ঘোষিত তালিকায় থাকা ২ নারী রেফারি হলেন যুক্তরাষ্ট্রের টোরি পেনসো এবং মেক্সিকোর কাতিয়া গার্সিয়া। মূল রেফারির পাশাপাশি আরও তিনজন নারীকে সহকারী রেফারি এবং একজনকে ভিডিও ম্যাচ কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো নারী রেফারিরা ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছেন।
এর আগে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ৩ জন নারী রেফারি এবং ৩ জন সহকারী রেফারি দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ফিফা জানিয়েছে, যোগ্যতার ভিত্তিতেই তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফিফার রেফারি কমিটির প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা জানান, ছয়জন নারী ম্যাচ কর্মকর্তা নির্বাচিত হওয়ার এই ঘটনাটি মূলত ৪ বছর আগে কাতারে শুরু হওয়া একটি ইতিবাচক ধারারই ধারাবাহিকতা, যার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে নারী রেফারিংকে আরও উন্নত ও প্রসারিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত বসবে এবারের বিশ্বকাপ আসর। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ যৌথভাবে এ টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে, যেখানে ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে ৫২ জন মূল রেফারির পাশাপাশি ৮৮ জন সহকারী রেফারি এবং ৩০ জন ভিডিও ম্যাচ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। ২০২২ বিশ্বকাপের ১৩৯ জন ম্যাচ কর্মকর্তার তুলনায় এবার এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ টুর্নামেন্টে কাতার বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করা বেশ কয়েকজন পরিচিত রেফারির প্রত্যাবর্তন ঘটছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন পোল্যান্ডের সিমন মার্সিনিয়াক, যিনি ৪ বছর আগের বিশ্বকাপ ফাইনালে সফলভাবে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।
অন্যদিকে, ফিফার সদ্য প্রকাশিত তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন কঙ্গোর রেফারি জঁ-জ্যাক এনডালা, যা ফুটবল বিশ্বে কিছুটা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (আফকন) এর ফাইনালে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি, যেখানে অতিরিক্ত সময়ের খেলায় মরক্কোকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল সেনেগাল। তবে গত মাসে আফ্রিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ক্যাফ) আশ্চর্যজনকভাবে সেই ফাইনালের ফলাফল বাতিল করে মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে। ক্যাফের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর সেনেগাল সুইজারল্যান্ডভিত্তিক কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস (ক্যাস)-এ আপিল করেছে। চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত বর্তমানে উভয় দেশই নিজেদের আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন বলে দাবি করে আসছে।
ডিবিসি/এএমটি