ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে সোমবার (৮ জুন) ভোরে আঘাত হানা ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৩৪ জন।
ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়াদের উদ্ধারে ম্যানিলা ইতিমধ্যে অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেছে এবং সামরিক ও দুর্যোগ মোকাবিলাকারী বিভিন্ন সংস্থাকে মাঠে নামানো হয়েছে।
ভোরে সারঙ্গানি প্রদেশের উপকূল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। এর তীব্র কম্পন মিন্দানাও থেকে ৪২০ কিলোমিটার দূরে ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের মানাদো শহরেও প্রবলভাবে অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের পরপরই দক্ষিণ ফিলিপাইন, উত্তর ইন্দোনেশিয়া এবং বোর্নিও দ্বীপের মালয়েশীয় রাজ্য সাবাহতে সুনামি সতর্কতা জারি করে উপকূলীয় বাসিন্দাদের দ্রুত উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে ছয় ঘণ্টার বেশি সময় পর সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।
প্রায় ৭ লাখ মানুষের আবাসস্থল জেনারেল সান্তোস সিটি এই ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘ ছুটির পর স্কুলগুলো খোলার ঠিক পরপরই এই বিপর্যয় নেমে আসে। স্থানীয় সরকার প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সান্তোস সিটির একটি ফাস্টফুডের দোকান থাকা ভবন ধসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধুলার স্তর বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং আতঙ্কিত মানুষ দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন।
ভূমিকম্পের সময় ওই ধসে পড়া ভবনের সামনেই মোটরচালিত থ্রি-হুইলার ট্যাক্সি চালাচ্ছিলেন জোজো কালমা (৪৪) নামে এক ব্যক্তি। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যাওয়া জোজো জানান, নিজের জীবনে তিনি এত শক্তিশালী ভূমিকম্প আর দেখেননি। এই ঘটনায় তার ভাইয়ের বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেলেও তার সন্তানসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা নিরাপদে আছেন।
মাত্র আট মাস আগে ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলীয় সেবু দ্বীপের উপকূলে ৬.৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে ৭৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল, যা ছিল গত ১২ বছরের মধ্যে দেশটির সবচেয়ে মারাত্মক ভূমিকম্প। সেই ঘটনার পর এবং মিন্দানাওতে ৭.৪ মাত্রাসহ আরও দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় নতুন করে এই বিপর্যয়ের সম্মুখীন হলো দেশটি।
সূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/এফএইচআর