দক্ষিণ ফিলিপাইনের জাম্বোয়াঙ্গা শহরের একটি স্কুলে গোলাগুলির ঘটনায় বন্দুকধারীসহ দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে এই ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় পুলিশ ও কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। নিহতদের মধ্যে হামলার শিকার শিক্ষার্থী দশম শ্রেণির এবং হামলাকারী নিজে নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
পুলিশের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাম্বোয়াঙ্গা শহরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আতেনিও দে জাম্বোয়াঙ্গা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন একটি স্কুলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। হামলাকারী একটি পিস্তল ও একটি রাইফেল নিয়ে স্কুল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে এবং শ্রেণিকক্ষের ভেতরে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হামলার পর নবম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী নিজেও আত্মহত্যা করে। ঘটনার পর সংবাদ চ্যানেল এএনসির সম্প্রচারিত ফুটেজে স্কুলের গেটের বাইরে উদ্বিগ্ন ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের ভিড় করতে দেখা যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে সশস্ত্র পুলিশ, সৈন্য এবং অপরাধস্থল তদন্তকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
আতেনিও দে জাম্বোয়াঙ্গা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি আর্নাল্ড আন্দাল জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বর্তমানে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানে আর কোনো সক্রিয় গোলাগুলি চলছে না। নতুন করে কোনো হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে জোর দিয়ে তিনি বলেন, "আমরা চাই না এমন কোনো ঘটনা ঘটুক। আমাদের সকল ছাত্রছাত্রীর নিরাপত্তাকেই আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে চাই।" উল্লেখ্য, ৮ হেক্টর জমির ওপর নির্মিত পাঁচতলা বিশিষ্ট এই স্কুল ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে।
ফিলিপাইনে অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে পূর্ব ইতিহাস যাচাই এবং মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়নের মতো কঠোর নিয়মকানুন থাকায় স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনা সাধারণত বিরল। তবে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের প্রচলন দেশটিতে এখনো একটি বড় সমস্যা। এই হামলার মাধ্যমে মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ফিলিপাইনে দ্বিতীয়বারের মতো স্কুলে গোলাগুলির ঘটনা ঘটল। এর আগে গত জুন মাসে তাকলোবান শহরের একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই সহপাঠীর গুলিবর্ষণে অন্তত তিনজন ছাত্র নিহত এবং প্রায় ২০ জন আহত হয়েছিল।
পাশাপাশি, থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে একটি স্কুলে এক ছাত্রের গুলিবর্ষণের ঘটনার দশ দিনেরও কম সময়ের ব্যবধানে ফিলিপাইনে এই হামলার ঘটনাটি ঘটল, যা পুরো অঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/পিআরএএন