ভবিষ্যতে যেন কোনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত হতে না পারে এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডগুলো একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তা নিশ্চিত করতে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ৯ হাজার নতুন অবৈধ আবাসন ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে ইসরায়েল।
বুধবার (১৭ই ডিসেম্বর) ইসরায়েলি অধিকার সংস্থা ‘পিস নাও’ জানিয়েছে, জেরুজালেম জেলা পরিকল্পনা ও নির্মাণ কমিটির বৈঠকে এই প্রকল্পের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা ও অনুমোদনের কথা রয়েছে।
পরিত্যক্ত কালান্দিয়া বিমানবন্দর এলাকায় ‘আতারত’ নামের এই নতুন বসতিটি গড়ে তোলার ছক কষা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি রামাল্লা, কালান্দিয়া শরণার্থী শিবির, আল-রাম, বেইত হানিনা এবং বীর নাবালার মতো ঘনবসতিপূর্ণ ফিলিস্তিনি এলাকার মাঝখানে একটি ইসরায়েলি ছিটমহল হিসেবে তৈরি করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য— একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ভৌগোলিক সম্ভাবনা নস্যাৎ করা।
‘পিস নাও’ এক বিবৃতিতে একে ‘ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছে, “এটি বাস্তবায়িত হলে পূর্ব জেরুজালেমের সঙ্গে আশপাশের ফিলিস্তিনি এলাকার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং কার্যত ইসরায়েলের পাশাপাশি একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন অসম্ভব হয়ে পড়বে।” সংস্থাটির অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার শান্তি ও সমঝোতার সম্ভাবনা শেষ করে দিতেই তড়িঘড়ি করে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এদিকে, পশ্চিম তীরের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান ও উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বুধবার সকালে পূর্ব জেরুজালেমের বিদু শহরে অনুমতি না থাকার অজুহাতে ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর শুরু করে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এছাড়া নুর শামস শরণার্থী শিবিরেও ২৫টি আবাসিক ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সেনাবাহিনীর।
উল্লেখ্য, গাজায় চলমান যুদ্ধের মধ্যেই পশ্চিম তীরে ১৯টি অবৈধ বসতি বৈধ করার অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
ডিবিসি/এনএসএফ