জেলার সংবাদ

ফেনীতে অজ্ঞাত মরদেহ ময়লার গাড়িতে বহন, গোসল-জানাজা ছাড়াই দাফন!

ফেনী প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ফেনীতে অজ্ঞাত পরিচয়ের মরদেহ দাফনে চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। এসব মরদেহ বহনে অ্যাম্বুলেন্সের বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে পৌরসভার ময়লার গাড়ি। এমনকি ধর্মীয় নিয়মানুযায়ী গোসল ও জানাজা ছাড়াই সম্পন্ন হচ্ছে দাফনকাজ। পরিচয়হীন এসব মানুষের শেষ বিদায়ের এমন অমানবিক দৃশ্য ক্ষুব্ধ করে তুলেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে অজ্ঞাত মরদেহগুলো দাফনের জন্য শহরতলীর সুলতানপুরে অবস্থিত ফেনী পৌর কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, উপযুক্ত যানবাহনের পরিবর্তে এসব মরদেহ পৌরসভার ময়লাবাহী গাড়িতে করে আনা হয়। কবরস্থানে আনার পর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মরদেহগুলোকে নিয়মানুযায়ী গোসল করানো হয় না এবং জানাজার নামাজও আদায় করা হয় না। অবহেলার এখানেই শেষ নয়; স্থান সংকুলানের অভাবে ৫-৬ মাসের ব্যবধানে একই কবরে একাধিক মরদেহ দাফনের ঘটনাও ঘটছে।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কবরস্থানটিতে ন্যূনতম পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। পানি তোলার জন্য কোনো মোটর না থাকায় পুকুরের পানি দিয়ে মরদেহের গোসল করাতে হয়। গ্রীষ্মকালে ওই পুকুর শুকিয়ে গেলে চরম বিপত্তি ঘটে। পুরো এলাকাজুড়ে নেই কোনো সীমানা প্রাচীর বা পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। ফলে ভেতরে গরু-ছাগল অবাধে বিচরণ করে এবং সন্ধ্যার পর অন্ধকার নেমে এলে স্থানটি মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের আড্ডায় পরিণত হয়।


১৯৬৬ সালে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসকের উদ্যোগে ‘মুসলিম কবরগাহ’ নামে এই গোরস্থানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সড়ক, মহাসড়ক ও রেলপথের কারণে ফেনীতে দুর্ঘটনায় নিহত বেওয়ারিশ মরদেহের প্রধান ঠিকানা এটি। ২০০৫ সালে তৎকালীন পৌর মেয়র নুরুল আবছারের উদ্যোগে ‘বিটুপিকা’ নামের একটি সবুজায়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। সে সময় পুকুরের দৃষ্টিনন্দন ঘাট ও দর্শনার্থীদের বসার জায়গা তৈরি করা হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে সেগুলো সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী ও ধ্বংসপ্রায়। নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে কেউ এখানে এলে তাদের বসার বা জিয়ারত করার মতো সুষ্ঠু পরিবেশ নেই।


স্থানীয়দের দাবি, বেওয়ারিশ হলেও এই মানুষগুলো কোনো না কোনো পরিবারের সন্তান। তাই অজ্ঞাত মরদেহ পরিবহনে ময়লার গাড়ির ব্যবহার অবিলম্বে বন্ধ করে মর্যাদাপূর্ণ বাহনের ব্যবস্থা করতে হবে। একইসঙ্গে গোসল ও জানাজার মতো ধর্মীয় এবং মানবিক আনুষ্ঠানিকতাগুলোও যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

 

এ বিষয়ে কবরস্থানের সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা ফেনী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমাবদ্ধ সামর্থ্যের মধ্যেই তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতি বছর এখানে ৩৫ থেকে ৪০ জন অজ্ঞাত মানুষের দাফন হয়। তবে আগামীতে কবরস্থানটির সার্বিক ব্যবস্থাপনার আরও উন্নয়নের পরিকল্পনা তাদের রয়েছে।

 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন