বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের ওটিতেই চলছে পিঠা তৈরি

ফেনী প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

২০ ঘন্টা আগে
Facebook NewsTwitter NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

কথা ছিল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতালে রোগিদের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন চিকিৎসক ও সেবিকারা। কিন্তু সেবার পরিবর্তে হাসপাতালের খোদ অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) লেবার ওয়ার্ডকেই বানানো হয়েছে রান্নাঘর। সেখানে বসানো হয়েছে গ্যাসের চুলা। নিয়মিত চলছে রান্নাবান্নাও। তবে তা রোগিদের জন্য নয়। সেবিকা এবং তাদের নিজস্ব লোকজনের জন্য। সম্প্রতি সেখানে পিঠা তৈরির একটি চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নানা মহলে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে একজন নার্স ওটির মধ্যেই পিঠা তৈরি করেত ব্যস্ত। আর এই কাজ একদিন দু’দিন ধরে নয়। টানা দুই বছর ধরে চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, জীবনরক্ষাকারী এই সংবেদনশীল স্থানে প্রতিদিন গর্ভবতীদের অস্ত্রোপচার ও স্বাভাবিক প্রসব চললেও, কয়েকজন  জ্যেষ্ঠ সেবিকা (সিনিয়র স্টাফনার্স) কক্ষটিকে রীতিমতো রান্নাঘর ও শয়নকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করছেন। বিষয়টি দেখেও যেন কিছুই জানেন না হাসপাতালের শীর্ষ ব্যক্তিরাও।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই অনিয়মের সঙ্গে নার্সিং সুপারভাইজার নূর জাহান, কল্পনা রানী, হ্যাপী রানী সূত্রধর, সীমা কর্মকার, রত্না বসাক, রানী বালা ও দেলোয়ারা বেগমসহ বেশ কয়েকজন নার্স জড়িত। সম্প্রতি অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে রান্নাবান্নার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, দুজন সিনিয়র নার্স ওটির ভেতরে শীতের পিঠা তৈরি করছেন। এর ঠিক পাশের কক্ষেই তখন অস্ত্রোপচার (সিজারিয়ান অপারেশন) চলছিল। সেখানে রোগীর স্বজনদেরও অবাধে যাতায়াত করতে দেখা গেছে।


অভিযোগ রয়েছে, স্বাস্থ্যঝুঁকির এই চরম অবস্থা সম্পর্কে লেবার ওয়ার্ডে কর্মরত চিকিৎসকরা সবই জানেন। এমনকি বিভিন্ন সময়ে সেখানে রান্না করা খাবার চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত আয়োজনেও পরিবেশন করা হয়েছে।  


রহিম উল্লাহ নামে এক রোগীর আত্মীয় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে অপারেশন হয়, সেখানে রান্নাবান্না করা জঘন্য কাজ। তদন্ত করে এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। সালাহ উদ্দিন নামে আরেকজন বলেন, দুই বছর ধরে এমন মারাত্মক কাজ চলছে, কিন্তু দেখার যেন কেউ নেই।

 

যদিও এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার নুর জাহান বেগম। তিনি বলেন, অপরশান থিয়েটার রুমে রান্নার কোন সুযোগ বা ব্যবস্থা নেই। অপারেশন থিয়েটার পাশে ওয়াশরুম, ইন্সট্রুমেন্ট রুম, অটো ক্লেপ রুম এবং গ্যাস লাইন সংযুক্ত রুম আছে। সেখানে চুলা সংযুক্ত আলাদা রুমে রোগীদের জন্য গরম পানি করা হয়। এছাড়া অপারেশন শেষে সরঞ্জাম ধোয়া বা সিদ্ধ করা হয়। মাঝেমধ্যে রোগীরা ডিম সিদ্ধ করেন। ভোরে ডিউটি হলে সেদিন স্টাফরা বাসা থেকে নাস্তা আনতে পারেন না, তাই মাঝেমধ্যে এখানে তারা চা তৈরি করেন। বাস্তবতা না দেখে বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।


 হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রোকন উদ দৌলার দাবি, 'ওটির ভেতর রান্নাবান্না অসম্ভব ও অগ্রহণযোগ্য।  আমরা অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।'


বিষয়টিকে চিকিৎসা শৃঙ্খলার চরম লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. জামাল উদ্দিন ও ফেনীর সিভিল সার্জন মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিমও।


হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নজরে আসার পর ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের আলোকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন