আন্তর্জাতিক

ফের ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: বাংলাদেশিসহ জীবিত উদ্ধার ৩২, ৭০ জনের মৃত্যুর শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইউরোপে পাড়ি জমানোর সময় লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ৭০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মৃত বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় শনিবার এই দুর্ঘটনা ঘটে। একটি বাণিজ্যিক জাহাজের সাহায্যে উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের ইতালির লাম্পেদুসা দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত উদ্ধারকৃত ৩২ জন যাত্রীর সবাই পুরুষ এবং তারা বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মিসরের নাগরিক।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (UNHCR) স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একজন নাবালকসহ মোট ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সংস্থাগুলোকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকালের মধ্যে লিবিয়ার তাজৌরা বন্দর থেকে ছেড়ে আসা ওই নৌকায় ১০০ জনেরও বেশি মানুষ ছিলেন।

 

যাত্রীরা জানান, সাগরের আবহাওয়া বেশ উত্তাল ছিল এবং বড় বড় ঢেউ উঠছিল। যাত্রা শুরুর কয়েক ঘণ্টা পর নৌকায় পানি উঠতে শুরু করে এবং লিবিয়ার জলসীমায় থাকা অবস্থাতেই একপর্যায়ে তা উল্টে যায়।

 

জার্মানিভিত্তিক উদ্ধারকারী সংস্থা সি-ওয়াচ (Sea-Watch) এক বিবৃতিতে জানায়, শনিবার তাদের একটি উড়োজাহাজ ভূমধ্যসাগরে একটি নৌকার বিপদে পড়ার খবর পায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা দেখতে পায়, একটি কাঠের নৌকা উল্টে আছে এবং বাঁচার আশায় প্রায় ১৫ জন নৌকার খোল আঁকড়ে ধরে আছেন। এসময় পানিতে আরও কয়েকজনকে ভাসতে দেখা যায় এবং কয়েকটি মৃতদেহও চোখে পড়ে।

 

ইতালীয় কোস্টগার্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন রবার্তো ডি'আরিগো জানান, লিবীয় কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একটি ইতালীয় এবং একটি লাইবেরিয়ান বাণিজ্যিক জাহাজ উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। উদ্ধারকৃত ৩২ জন যাত্রীর সবাই পুরুষ এবং তারা বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মিসরের নাগরিক। পরে তাদের ইতালীয় কোস্টগার্ডের একটি জাহাজে করে ইতালির সর্বদক্ষিণের দ্বীপ লাম্পেদুসায় নেওয়া হয়। জাহাজটিতে দুটি মৃতদেহও উদ্ধার করে আনা হয়েছে।

 

ইউএনএইচসিআর-এর মুখপাত্র ফিলিপো উনগারো জানান, ওই অভিবাসনপ্রত্যাশীরা যে ধরনের হালকা নৌকায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তা এই যাত্রার জন্য "একেবারেই অনুপযোগী" ছিল। বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা ইউএনএইচসিআর কর্মীদের জানিয়েছেন, তাদের অন্তত ৭০ জন সঙ্গী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তবে নিখোঁজ যাত্রীদের এই সংখ্যার বিষয়টি "এখনও যাচাই করা প্রয়োজন" বলে উল্লেখ করেছেন উনগারো।

 

অন্যদিকে, ইতালিতে আইওএম-এর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, উল্টে যাওয়া ওই নৌকায় ১২০ জনের মতো যাত্রী থেকে থাকতে পারে। নিখোঁজ বা মৃত্যুর এই সংখ্যা যদি নিশ্চিত হয়, তবে এটি ভূমধ্যসাগরে ঘটে যাওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সবচেয়ে ভয়াবহ ট্র্যাজেডিগুলোর একটিতে পরিণত হবে। পোপ ফ্রান্সিস একবার এই ভূমধ্যসাগরকে 'ইউরোপের সবচেয়ে বড় কবরস্থান' বলে অভিহিত করেছিলেন।

 

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে রোমের বাইরে নিজের প্রথম সরকারি সফরের স্থান হিসেবে এই লাম্পেদুসা দ্বীপকেই বেছে নিয়েছিলেন পোপ ফ্রান্সিস। গত বছরের এপ্রিলে তিনি মারা যান। তাঁর উত্তরসূরি পোপ চতুর্দশ লিও আগামী ৪ জুলাই লাম্পেদুসা সফরের পরিকল্পনা করছেন।

 

আইওএম ২০১৪ সালে সমুদ্রে মৃত্যুর হিসাব রাখা শুরু করে। সংস্থাটির তথ্যমতে, এরপর থেকে ভূমধ্যসাগরে ৩৩,৪৫০ জনেরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। এদের বেশিরভাগেরই মৃত্যু হয়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়া থেকে ইতালি এবং মাল্টার মতো ইউরোপীয় দেশগুলোর পথে মধ্য ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময়। এছাড়া তুরস্ক ও গ্রিসের মধ্যকার সংকীর্ণ পূর্ব প্রণালীতে অথবা পশ্চিমে মরক্কো ও স্পেনের মধ্যবর্তী জলসীমায় বাকিদের মৃত্যু হয়েছে।

 

অভিবাসী উদ্ধারকারী সংস্থা 'মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যানস' সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেছে, "সাম্প্রতিক এই নৌকাডুবি কেবল একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনাই নয়, বরং এটি ইউরোপীয় সরকারগুলোর অনুসৃত নীতির ফল, যারা অভিবাসীদের জন্য আইনি ও নিরাপদ প্রবেশের পথ খুলে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।"

 

শুধুমাত্র চলতি বছরেই মধ্য ভূমধ্যসাগরে অন্তত ৭২৫ জন মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। এর মধ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে এক নৌকাডুবিতেই দুই শিশুসহ অন্তত ৫৩ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ হন। এছাড়া মাত্র গত সপ্তাহে লাম্পেদুসা থেকে প্রায় ৮০ নটিক্যাল মাইল দূরে অভিবাসনপ্রত্যাশীবোঝাই একটি ডিঙি নৌকা বিপদে পড়লে, ইতালীয় কোস্টগার্ড ১৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং ৫৮ জনকে জীবিত বাঁচাতে সক্ষম হয়।

 

সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস

 

ডিবিসি/কেএলডি

আরও পড়ুন