ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি

ফের মার্কিন হামলা হলে প্রতিশোধের আগুন মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও জ্বলবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সামরিক অভিযান শুরুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন বলে মন্তব্য করার পর, বুধবার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। তেহরান সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় আক্রমণ করে, তবে এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়বে।

ট্রাম্প কর্তৃক অপারেশন এপিক ফিউরি স্থগিত এবং যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ছয় সপ্তাহ কেটে গেলেও যুদ্ধ অবসানের আলোচনা বর্তমানে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।


চলতি সপ্তাহে ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব জমা দিয়েছে। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে জনসমক্ষে যা জানানো হয়েছে, তাতে পূর্বের সেই শর্তগুলোরই পুনরাবৃত্তি দেখা গেছে যা ট্রাম্প আগেই প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ক্ষতিপূরণ, সমস্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করে রাখা তহবিল মুক্তি এবং ওই অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার।


এদিকে গত সোম ও মঙ্গলবার ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি প্রায় নতুন করে বোমাবর্ষণ শুরু করার নির্দেশ দিয়ে ফেলেছিলেন, কিন্তু কূটনীতির স্বার্থে শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করেন। ট্রাম্প বলেন, আজকেও (মঙ্গলবার) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা দূরত্বে ছিলাম আমি।


এর জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে আবারও আগ্রাসন চালানো হলে, এবারের প্রতিশ্রুত আঞ্চলিক যুদ্ধ শুধু এই অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এর বাইরেও ছড়িয়ে পড়বে।


ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান তাদের নিজস্ব জাহাজ ছাড়া বাকি সব দেশের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় নেমে আসে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে গত মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে।


তবে ইরান জানিয়েছে, তেহরানের শর্ত মেনে চলা বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর জন্য এই নৌপথ খুলে দেওয়া হতে পারে। এর জন্য ইরান ট্রানজিট ফি বা শুল্ক দাবি করতে পারে, যা ওয়াশিংটনের কাছে সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য নয়।


এরই মধ্যে গত সপ্তাহে বেইজিংয়ে ট্রাম্পের সফরের সময় চীনের জাহাজের ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিল করার ঘোষণা দেয় ইরান। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার ৪ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বোঝাই দুটি বিশাল চীনা ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতের জাহাজ চলাচলের বিষয়েও কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।


সামনে নভেম্বরে মার্কিন কংগ্রেসের নির্বাচন। এর মধ্যে তীব্র জ্বালানি সংকট ও তেলের মূল্যবৃদ্ধি ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে বেশ চাপে ফেলেছে। ফলে যুদ্ধ শেষ করার জন্য ট্রাম্পের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়ছে।


কখনও ট্রাম্প পুনরায় বোমা হামলার হুমকি দিচ্ছেন, আবার কখনও দ্রুত শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বার্তা দিচ্ছেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, যিনি গত মাসের শান্তি আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তিনিও কিছুটা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, আমরা বেশ ভালো অবস্থানে আছি।


মার্কিন প্রশাসনের এই ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তনের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ঘণ্টায় ওঠানামা করছে। বুধবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ২.৭৫% কমে ব্যারেল প্রতি ১০৮ ডলারের কাছাকাছি নেমেছে।


এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে মার্কিন-ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে ইরানে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি অভিযানেও হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলায় ইসরায়েল এবং প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতেও বেশ কিছু প্রাণহানি ঘটেছে।


বর্তমানে যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলেও, মে মাসের শুরুতে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য একটি নৌ-মিশন ঘোষণা করার পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। যদিও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সেই মিশন বাতিল করা হয়। চলতি সপ্তাহেও সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে ইরাক থেকে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। বুধবার জর্ডানও তাদের আকাশসীমায় একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে।


যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেছিলেন যে, তাদের মূল লক্ষ্য হলো- ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করা, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং আঞ্চলিক মিলিশিয়াদের অর্থায়ন বন্ধ করা। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান এখনও তাদের পরমাণু সক্ষমতা ও ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি বজায় রেখেছে এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থাতেও যুদ্ধের কারণে বড় কোনো ঝাঁকুনি দেওয়া সম্ভব হয়নি।


সূত্র: রয়টার্স


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন