সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে ফেসবুক লাইভে এসে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সভা করার অনুমতি না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘বিজেপির নেতারা যদি মনে করেন, আমাকে মিটিংয়ের পারমিশন দেবেন না, তাই আমি সন্ন্যাস গ্রহণ করব আমি সন্ন্যাসী নই। বিজেপিকে সন্ন্যাসে না পাঠানো পর্যন্ত আমাদের লড়াই থামবে না।’
মমতার বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একাধিক ঘোষণা নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল নেত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘আপনি বিকেলবেলায় ফেসবুকেই থাকুন। রাস্তায় যাতে বেরোতে না পারেন, তার ব্যবস্থা করব।’
অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে হকার উচ্ছেদ বিভিন্ন ইস্যুতে নতুন সরকারের সমালোচনা করেন মমতা। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক ভাঙচুর এবং কলকাতার ফুটপাথবাসীদের রাজ্যের এক মন্ত্রীর ধমক দেওয়ার প্রসঙ্গও। নতুন সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের মানুষ চার মাসেই বুঝে নিয়েছে। কে কেমন, বুঝে গিয়েছে। আয়নায় নিজেদের মুখ দেখুন।’
পাল্টা পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ মনে করিয়ে দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘মানুষ শুধু উন্নয়নের জন্য ভোট দেয়নি, দুর্নীতিবাজদের শাস্তি দেওয়ার জন্যও ভোট দিয়েছে।’ আগের সরকারের আমলে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। অভিযুক্তদের সম্পত্তি বিক্রি করে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
২১ জুলাইয়ের কর্মসূচির পর গত কয়েক দিনে নতুন কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায়নি মমতাকে। এর আগে বারুইপুরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে সে সময় কালীঘাটে তাঁর বাড়ির সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল বলে তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।
কয়েক সপ্তাহ আগে হালিশহরে এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতেও গিয়েছিলেন মমতা। পুলিশের লকআপে মারধরের ফলে ওই কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। সেখানে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী। সেই প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, ‘বারুইপুরে গোল খেয়েছেন, হালিশহরেও চেষ্টা করেছিলেন, সেখানেও গোল খেয়েছেন।’
সূত্র: এই সময়
ডিবিসি/এমএনকে