আন্তর্জাতিক, বিবিধ

ফ্রান্সের নৌবাহিনীতে যুক্ত হলো ৪র্থ 'বারাকুডা' শ্রেণির পারমাণবিক শক্তিচালিত অ্যাটাক সাবমেরিন

সিরাজুর রহমান

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ফ্রান্সের Naval Group ২৪ জুন ২০২৬ তারিখে তাদের নির্মিত চতুর্থ বারাকুডা (Barracuda) ক্লাস নিউক্লিয়ার পাওয়ারড এ্যাটাক সাবমেরিন De Grasse (S636) ফরাসি প্রতিরক্ষা ক্রয় সংস্থা (DGA) এবং ফরাসি নৌবাহিনী (Marine Nationale) এর কাছে হস্তান্তর সম্পন্ন করেছে।

মূলত, চলতি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ৪ মাসব্যাপী সি-ট্রায়াল সম্পন্ন করে চূড়ান্তভাবে De Grasse (S636) Barracuda টাইপ SSN (Nuclear-powered Attack Submarine) ফ্রান্সের নৌবাহিনীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেয়া হয়। এ নিয়ে ফরাসি নৌবাহিনীতে মোট চারটি বারাকুডা শ্রেণির সাবমেরিন অন্তর্ভুক্ত হলো।

 

প্রায় ৫,৩০০ টন (সাবমার্জড অবস্থায়) ওজনের নতুন প্রজন্মের এই নিউক্লিয়ার পাওয়ারড সাবমেরিনের দৈর্ঘ্য ৯৯.৫ মিটার এবং বিম (Beam) ৮.৮০ মিটার। এর সর্বোচ্চ গতি ২৫ নট (প্রায় ৪৬ কিমি/ঘণ্টা) পর্যন্ত হতে পারে। এটিতে মোট ৬৩ জন অফিসার ও নাবিক একসাথে কাজ করতে পারে।

 

এই সাবমেরিনের রিঅ্যাক্টরে একবার জ্বালানি প্রতিস্থাপনের পর এটি প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত সাগরের বুকে মিশন পরিচালনা করতে পারে। বিশেষ করে, পরমাণু শক্তিচালিত হওয়ায় জ্বালানির দিক থেকে কার্যত এর নির্দিষ্ট কোনো অপারেশনাল রেঞ্জ নেই, তবে খাদ্য ও অন্যান্য রসদের সীমাবদ্ধতার কারণে সাধারণত একটানা প্রায় ৭০ দিন পর্যন্ত টানা সমুদ্রে অবস্থান করতে পারে।

 

শক্তি সঞ্চালনের জন্য এতে মোট ১০ মেগাওয়াট (১৩,০০০ হর্স পাওয়ার) সক্ষমতার ২টি ইলেকট্রিক মোটর/ইঞ্জিন সংযোজন করা হয়েছে। তাছাড়া ১৫০ মেগাওয়াট (২,০০,০০০ হর্স পাওয়ার) বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন কে-১৫ নিউক্লিয়ার রিয়েক্টর বা pressurized water reactor (PWR) ইন্সটল করা হয়েছে।

তার পাশাপাশি এতে দুটি জরুরি (Emergency) বৈদ্যুতিক মোটর এবং একটি পাম্প-জেট প্রপালসর (Pump-jet propulsor) রয়েছে। আর দীর্ঘ সময় পানির নিচে টানা অভিযান পরিচালনার জন্য এতে অক্সিজেন উৎপাদন, কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ (বায়ু পরিশোধন) এবং উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়েছে।

 

এই বারাকুডা ক্লাস নিউক্লিয়ার পাওয়ারড এ্যাটাক সাবমেরিনের প্রধান অস্ত্র হিসেবে ৪টি ৫৩৩ এমএম টর্পেডো টিউব থেকে টর্পেডো এবং এন্টিশীপ ও সারফেস মিসাইল ফায়ার করতে সক্ষম। এটিতে মোট ২৪টি টর্পেডো এবং মিসাইল বহন করার উপযোগী করে ডিজাইন করেছে ফ্রান্সের নেভাল গ্রুপ। যার মধ্যে ৪টি থাকে টিউবে এবং ২০টি সাবমেরিনের ভিতরে র‍্যাকে সংরক্ষণ করে রাখা থাকে।

 

এর মেইন অস্ত্র হিসেবে রয়েছে এফ-২১ হেভি টর্পেডো এবং এসএম-৩৯ ব্লক-২ এন্টিশীপ মিসাইল। তার পাশাপাশি রয়েছে নেভাল (এমডিসিএন এসসিএএলপি) ক্রুজ মিসাইল এবং এফজি-২৯ মাইন। উল্লেখ্য যে, এই জাতীয় সাবমেরিনকে কিন্তু নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড বেসড স্ট্র্যাটিজিক ব্যালেস্টিক মিসাইল কিংবা (এসএলবিএম) জন্য ডিজাইন বা কাস্টমাইজড করা হয়নি।

 

সাম্প্রতিক উন্মুক্ত তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের নৌবাহিনীত মোট ৯টি নিউক্লিয়ার পাওয়ারড সাবমেরিন অপারেশনাল রয়েছে। যার মধ্যে ১৪,৩৩৫ টন ওজনের কৌশলগত (Strategic) নিউক্লিয়ার ব্যালেস্টিক মিসাইল সাবমেরিন (SLBM) রয়েছে ৪টি। এছাড়া, বারাকুডা (Barracuda) ক্লাস এ্যাটাক সাবমেরিন ৪টি এবং রুবিস (Rubis) শ্রেণির পুরোনো নিউক সাবমেরিন রয়েছে ১টি, যা আগামী ২০২৭ সালে অবসরে পাঠানো হবে। (ইন্টারনেটে প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য উন্মুক্ত উৎস থেকে তথ্য সংগৃহীত)

 

সিরাজু রহমান,
শিক্ষক ও লেখক

 

ডিবিসি/এইচএপি  

আরও পড়ুন