যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একটি গ্যাস স্টেশনের সামনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক নারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেশটিতে অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত হামলাকারী হাইতির একজন নাগরিক হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনাকে বাইডেন প্রশাসনের ব্যর্থ অভিবাসন নীতির ফল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২ এপ্রিল ফোর্ট মায়ার্সের একটি গ্যাস স্টেশনের সামনে এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত রলবার্ট জোয়াকিন (৪০) ওই দোকানের কর্মী বাংলাদেশি নারীকে লক্ষ্য করে হাতুড়ি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, জোয়াকিন প্রথমে পার্কিং লটে থাকা একটি গাড়ির ওপর হামলা চালান। ওই নারী দোকান থেকে বেরিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই জোয়াকিন তার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন। নিচে পড়ে যাওয়ার পরও তাকে আরও অন্তত ছয়বার আঘাত করা হয়। ঘটনাস্থলেই ওই নারীর মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাটি ছিল টার্গেটেড এবং এর আগেও অভিযুক্তের সাথে ওই নারীর একবার বাকবিতণ্ডা হয়েছিল। তবে ব্যক্তিগতভাবে তারা একে অপরের পরিচিত ছিলেন না।
নিহত নারীর নাম পুলিশ সরাসরি প্রকাশ করেনি (ফ্লোরিডার 'মার্সি’স ল' বা ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা রক্ষা আইনের কারণে)। তবে তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এবং ছয় বছর আগে আইনি প্রক্রিয়া মেনে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেছিলেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা মিকাহ ম্যাককম্বস বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন মার্কিন নাগরিক, যিনি সঠিক পথে এ দেশে এসেছিলেন, তাকে এভাবে প্রাণ হারাতে হলো।
এই ঘটনায় ফোর্ট মায়ার্সের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রবাসী এম. ডি. ইসলাম বলেন, “এই খবর দেখে সারা বিশ্বের বাংলাদেশি কমিউনিটি আজ শোকাহত। তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ মা এবং ধর্মপ্রাণ মানুষ ছিলেন।”
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ এই হত্যাকাণ্ডের ভিডিও শেয়ার করেছেন। ভিডিওটিকে অত্যন্ত নৃশংস বলে বর্ণনা করে ট্রাম্প অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পশু হিসেবে সম্বোধন করেন। তিনি দাবি করেন, বাইডেন প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কারণে জোয়াকিনের মতো অপরাধীরা দেশে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে। অভিযুক্ত এ ব্যক্তির যথাযথ শাস্তি হবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত জোয়াকিন ২০২২ সালে অবৈধভাবে নৌকায় করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ থাকলেও বাইডেন প্রশাসনের টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস-এর আওতায় তাকে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্প এই কর্মসূচিকে প্রতারণা বলে অভিহিত করেছেন এবং দ্রুত এটি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডের পর ফোর্ট মায়ার্স পুলিশ এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটির যৌথ অভিযানে জোয়াকিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি লি কাউন্টি কারাগারে জামিনবিহীন অবস্থায় বন্দি রয়েছেন। আগামী ৪ মে আদালতে তার শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার নারীর স্মরণে গ্যাস স্টেশনের সামনে স্থানীয়রা একটি অস্থায়ী স্মৃতিসৌধ তৈরি করেছেন, যেখানে বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ও স্থানীয় মার্কিনিরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
সূত্র: সিএনএন
ডিবিসি/এসএফএল