বগুড়ায় সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে আইন, বিধিমালা, মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র এমনকি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার তোয়াক্কা করা হচ্ছে না।
মাঝখানে বহুতল ভবন রেখেই নির্মাণ হয়েছে ৪ লেন মহাসড়ক ও ফ্লাইওভার। আর যারা জমি দিয়েছেন, এখনও তাদের ভোগান্তির শেষ নেই। তিন বছরেও মিলেনি ক্ষতিপূরণের অর্থ।
২০১৯ সালের ৯ই এপ্রিল একনেকের সভা শেষে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ভূমি অধিগ্রহণের অর্থ নিয়ে জনদুর্ভোগ কমাতে পরিবর্তন আনা হয় স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইনেও। সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে অধিগ্রহণকৃত ভূমির ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা থাকলেও, একেবারেই উল্টো চিত্র বগুড়ার শেরপুর, সদর, শাজাহানপুর ও শিবগঞ্জ উপজেলায়।
সাসেক প্রকল্প-২ এর আওতায় নির্মাণাধীন ৪ লেন মহাসড়কের বগুড়া অংশে বেশিরভাগ ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এতে কেউ হারিয়েছেন বাপ-দাদার ভিটেবাড়ি, কেউ একমাত্র আয়ের উৎস ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু, অধিগ্রহণের ২ থেকে ৩ বছরেও ক্ষতিপূরণ পাননি ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, ’ডিসি অফিসে নানা তাল-বাহানার কারণে, আমরা তিনটা বছর যাবৎ কষ্টে জর্জরিত হয়ে যাচ্ছি। তারপরও টাকা পাইনি এখনও।’
শেরপুর উপজেলায় মসজিদের ক্ষতিপূরণ না পেয়ে সড়ক বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয়রা। তিন বছরেও বিরোধ মেটেনি। আর তাই মহাস্থান এলাকায় মাঝ রাস্তায় দোকান, অফিস, বহুতল ভবন রেখেই নির্মাণ করা হয়েছে ৪ লেন মহাসড়ক এবং ফ্লাইওভার।
ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, ‘তিন বছরে কোনো নোটিশ দেয়নি। আমরা তো এখানে ব্যবসা-বাণিজ্য করে, এখন সব বন্ধ হয়ে গেছে। জায়গার যে ন্যায্য মূল্য সেটাই দেক। আমরা এখন এটাই চাই।’