দেশজুড়ে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা তীব্র তাপপ্রবাহের পর রোববার (২৬ এপ্রিল) ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে স্বস্তির বৃষ্টি নেমেছে। তবে এই বৃষ্টির সাথে হওয়া বজ্রপাতে দেশের সাতটি জেলায় শিশু ও নারীসহ অন্তত ১৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
গাইবান্ধা:
জেলাটিতে সবচেয়ে বেশি ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকার সময় বজ্রপাতে ফুয়াদ চৌধুরী, রাফি চৌধুরী ও মিজান মিয়া নামের তিনজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শামীম নামে একজন আহত হয়েছেন এবং একটি গরু মারা গেছে। এছাড়া ফুলছড়ি উপজেলায় মানিক মিয়া এবং সাঘাটায় ছাগল আনতে গিয়ে নম্বার আলী নামে এক বৃদ্ধ মারা গেছেন।
ঠাকুরগাঁও:
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় পৃথক দুটি বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘাস কাটতে গিয়ে লাবণী আক্তার (৩৫) এবং জমিতে ফসল দেখতে গিয়ে ইলিয়াস আলী (৩৭) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে দুজন মারা গেছেন। রায়গঞ্জের ধানগড়া ইউনিয়নে কাটা ধান স্তূপ করার সময় হোসেন আলী শেখ (২৫) এবং তাড়াশের মাধাইনগর ইউনিয়নে জমিতে কাজ করার সময় কৃষক আব্দুল হামিদ (৫০) মারা যান।
জামালপুর:
জামালপুর সদর ও মেলান্দহ উপজেলায় বজ্রপাতে দুজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। মেলান্দহে রান্নাঘরে কাজ করার সময় মর্জিনা বেগম (২২) এবং সদরের চর যথার্থপুর এলাকায় জমিতে কাজ করার সময় হাসমত আলী (৪৫) মারা যান। বজ্রপাতে মোট পাঁচটি গরুরও মৃত্যু হয়েছে।
পঞ্চগড়:
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় বিয়ের মাত্র আট দিন পর বজ্রপাতে সোহরাওয়ার্দী (২২) নামে এক চা-শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন।
নাটোর ও বগুড়া:
নাটোরের সিংড়ায় ধান কাটার সময় সম্রাট হোসেন (২৬) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে বগুড়ার গাবতলীতে মাঠ থেকে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে সুমন (৩৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
ডিবিসি/আরএসএল