ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রীতে দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে গলাকেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামি মিলন মল্লিক আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করেছেন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই মো. মারুফুজ্জামান।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খিলগাঁও থানার এসআই আব্দুর রাজ্জাক (রাজু) মঙ্গলবার মিলনকে আদালতে হাজির করেন। আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হলে তদন্ত কর্মকর্তা তা রেকর্ডের আবেদন জানান এবং সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে ম্যাজিস্ট্রেট জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
এর আগে রোববার রাতে বাগেরহাট সদর থানার বড় সিংগা এলাকা থেকে র্যাব মিলনকে গ্রেপ্তার করে। ২৮ বছর বয়সি মিলন মল্লিক নিহতের বাবার খাবার হোটেলের কর্মী ছিলেন এবং ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন।
র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফিন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই মিলন হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। র্যাবের তথ্যানুযায়ী, হোটেল কর্মচারী হওয়ার সুবাদে মিলন প্রায়ই ওই বাসায় যাতায়াত করতেন এবং ভুক্তভোগী কিশোরীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার আগের রাতে কিশোরী তাকে গালিগালাজ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে মিলন প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনামাফিক ঘটনার দিন নাইলনের দড়ি নিয়ে মিলন বাসায় যান। সেখানে পুনরায় অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তিনি কিশোরীর গলায় দড়ি পেঁচিয়ে ধরেন। এ সময় ভুক্তভোগী চিৎকার করার চেষ্টা করলে রান্নাঘরের বটি দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মিলন বাসা তল্লাশি করে কিছু নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যান।
সিসিটিভি ফুটেজ ও তদন্তের তথ্যানুযায়ী ঘটনার একটি সময়রেখা পাওয়া গেছে। জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটে মিলন খাবার নিয়ে বাসায় প্রবেশ করেন এবং ১টা ৪১ মিনিটে নিহত কিশোরীর বড় বোন শোভার সাথে বাসা থেকে বের হন। এরপর শোভা জিমে থাকার সুযোগে দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে মিলন পুনরায় বাসায় প্রবেশ করেন। হত্যাকাণ্ড ও লুটপাট শেষে পৌনে ৩টার দিকে তিনি বাসা থেকে বেরিয়ে যান।
গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে দক্ষিণ বনশ্রীর ‘প্রীতম ভিলা’র ফ্ল্যাট থেকে রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সময় তার বাবা-মা ও ভাই গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জে ছিলেন এবং বড় বোন জিমে গিয়েছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. সজিব বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালত পুলিশকে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
ডিবিসি/এনএসএফ