মধুপুর বনের এক সময়ের সমৃদ্ধ বন্যপ্রাণীর ইতিহাস এখন বিলুপ্তির পথে। ১৯৬০ সাল থেকে বন্যপ্রাণী রক্ষার উদ্যোগ এবং ১৯৮২ সালে জাতীয় উদ্যানের স্বীকৃতি সত্ত্বেও হাতি, বাঘ, চিতাবাঘ, হরিণ, বন্য শূকর ও ময়ূরের মতো প্রাণীরা বন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে অল্প কিছু বানর, কদাচিৎ হনুমান এবং কয়েক প্রজাতির পাখি ও সরীসৃপ দেখা গেলেও নির্বিচারে শিকার, প্রাকৃতিক বন উজাড়, খাদ্য সংকট এবং অনিরাপদ আবাসস্থলের কারণে তাদের অস্তিত্বও চরম হুমকির মুখে।
বনের জমি বেহাত, বিদেশি গাছের আগ্রাসন এবং বাণিজ্যিক চাষাবাদের ফলে শালবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বন্যপ্রাণীদের ওপর। খাদ্যের তীব্র সংকটে বানরদের টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে মানুষের কাছ থেকে খাবার সংগ্রহের দৃশ্য এখন নিত্যদিনের। স্থানীয়রা বলছেন, বনের শৃঙ্খলা ভাঙার ফলেই বৃক্ষরাজি ও প্রাণীকূল সবই এখন বিলুপ্তির পথে।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এএসএম সাইফুল্লাহ বন বিভাগের ১৯০ প্রজাতির বন্যপ্রাণী থাকার দাবির সাথে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণেই অভয়ারণ্যের পরিবর্তে বন ধ্বংস হয়েছে। তবে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন বনের ভারসাম্য রক্ষা ও খাদ্য সংকট দূর করতে সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
ডিবিসি/এএমটি